বাড়িতে আগুন, মাকে গুলি করে খুন, আত্মঘাতী ছেলে, তদন্তে পুলিশ
বেঙ্গল মিরর, কুলটি ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* মাকে গুলি করে খুন। পরে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী ছেলে। বৃহস্পতিবার রাত বারোটা নাগাদ চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটি থানার আসানসোল পুরনিগমের ৭২ নং ওয়ার্ডের কুলটি কলেজ মোড় সংলগ্ন রামকৃষ্ণ পল্লীতে। এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের নাম হলো সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (৭৬) ও রাজা মুখোপাধ্যায় (৫০)। গৃহকর্তা দয়াময় মুখোপাধ্যায় গত দুদিন ধরে কাশিপুরে মেয়ের বাড়িতে থাকায় তিনি বেঁচে যান। তিনি খবর পেয়ে ভোররাত চারটে নাগাদ কুলটিতে আসেন। এদিন সকালে খবর পেয়ে এলাকায় আসেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৈতন্য মাজি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কুলটি থানার পুলিশ।














জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে কুলটির মুখোপাধ্যায় বাড়িতে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। গত বুধবার বাবা দয়াময় মুখোপাধ্যায়কে ছেলে রাজা মুখোপাধ্যায় মারধর করেন। যে কারণে দয়াময়বাবু কাশিপুরে মেয়ের বাড়িতে চলে যান। তারপর থেকে রাজা তার মা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের সাথে বাড়িতে থাকছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত বারোটা নাগাদ কুলটি কলেজ মোড় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা মুখোপাধ্যায় বাড়ি থেকে গুলি চলার মতো দুটি আওয়াজ শুনতে পান। তারপর তারা ঐ বাড়িতে আগুন দেখতে পান। স্বাভাবিক গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে এলাকায় আসে কুলটি থানার পুলিশ। পরে একটি ইঞ্জিন নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন দমকলকর্মীরা। পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর বাড়ির ভেতর থেকে ঝলসানো অচৈতন্য অবস্থায় মা ও ছেলেকে পাওয়া যায়। রাত তিনটে নাগাদ পুলিশ দুজনকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। শুক্রবার সকালে দয়াময় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমার ছেলে রাজা প্রথমে তার মা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে গুলি করে ও পরে আত্মহত্যা করে। ঘটনার সময় বাড়িতে আগুন লেগেছিল বলে শুনেছি। আমি বাড়িতে ছিলাম না। গত কয়েক দিন ধরে মায়ের সঙ্গে ছেলের পারিবারিক বিবাদ চলছিলো। গত বুধবার ছেলে আমাকে মারধর করে। তাই আমি সেদিনই মেয়ের বাড়িতে চলে যাই। বৃহস্পতিবার রাতে ভাগ্নে আমাকে ঘটনার কথা জানায়। তারপর আমি এখানে আসি।
জানা গেছে, মৃত রাজা মুখোপাধ্যায় একটি বেসরকারি কারখানায় বন্দুকধারী বা গানম্যান নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। তবে, গত ৬ মাস ধরে তিনি কাজ করছিলেন না। তিনি বাড়িতেই থাকছিলেন। রাজা মুখোপাধ্যায় গানম্যান হিসেবে কাজ করায়, তার কাছে একটা বন্দুক ছিলো। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পরে অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জের এই ঘটনা ঘটেছে।এই প্রসঙ্গে পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, শুক্রবার দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে মা ও ছেলের মৃতদেহর ময়নাতদন্ত করা হবে। পারিবারিক বিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। গৃহকর্তার সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তারপর জানা যাবে, তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।


