পশ্চিম বর্ধমান জেলার ৯ বিধানসভায় ৩ নতুন মুখ, পুরনো ৬ এ ভরসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* পূর্বাভাস মতো পশ্চিম বর্ধমান জেলার ৯ আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো মুখেরাই এবারে নির্বাচনে লড়াইয়ে নামতে চলছেন। দলের সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জেলায় পুরনো ৬ জনের উপরেই ভরসা রেখেছেন। বাকি ৩ নতুন মুখকে এবার তিন কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসানসোল উত্তরের বিধায়ক মলয় ঘটকের হাত থেকে আইন দপ্তর নিয়ে নিজের কাছে রাখেন। অনেকে বিশেষ করে মলয় ঘটকের অনুগামীরা তারপরে কিছুটা শঙ্কায় ছিলেন। কিন্তু তেমন কিছু একটা হলো না। আবারও মলয় ঘটককে আসানসোল উত্তরের টিকিট দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা থেকে প্রত্যাশা মতো প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের আরো এক মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। দুর্গাপুর পশ্চিমে এবার প্রার্থী হলেন আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা আড্ডার চেয়ারম্যান কবি দত্ত। তিনি এবার নতুন মুখ হিসেবে সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নামলেন।














রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দোপাধ্যায়কে তার পুরনো কেন্দ্র আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। রানিগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে কালোবরণ মন্ডলকে। তিনিও কবি দত্তর মতো নতুন প্রার্থী। প্রত্যাশা মতোই পান্ডবেশ্বর থেকে এবারেও দলের টিকিট পেলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। জামুড়িয়া থেকে দলের প্রার্থী হিসেবে এবারেও টিকিট পেলেন হরেরাম সিং। যেমনটা হয়েছে বারাবনির ক্ষেত্রে। এই কেন্দ্রে আবারও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন আসানসোল পুরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায়।
তবে, এবারে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অন্যতম চমক হলো কবি দত্তর মতো কুলটি বিধানসভা থেকে মলয় ঘটকের ভাই অভিজিৎ ঘটকের টিকিট পাওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুলটি আসন পুনরুদ্ধারে আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র তথা দলের আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি অভিজিৎ ঘটকের উপরে ভরসা রেখেছেন। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হওয়ার পরে মোটামুটি পাকা হয়ে গেছে যে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয়টি বিধানসভায় কাদের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। আসানসোল উত্তরে ২১ র মতো লড়াই হবে মলয় ঘটকের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের। এই কেন্দ্রে বামেদের তরফে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। আসানসোল দক্ষিণে আপাততঃ লড়াইয়ে রইলেন বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল, তৃণমূলের তাপস বন্দোপাধ্যায় ও সিপিএমের শিল্পী চক্রবর্তী। কুলটিতে লড়াই হবে বিজেপির ডাঃ অজয় পোদ্দার ও তৃণমূল কংগ্রেসের অভিজিৎ ঘটকের মধ্যে। কুলটিতে বামফ্রন্টের মনোনীত ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হয়েছেন ভবানী আচার্য।
বারাবনিতে কাদের মধ্যে লড়াই হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তার কারণ এই কেন্দ্রে বিজেপি ও বামফ্রন্ট এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। জামুড়িয়ায় লড়াইয়ে ছবিটা মোটামুটি পরিষ্কার। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের হরেরাম সিংয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে থাকছেন বিজেপির বিজন মুখোপাধ্যায় ও সিপিএমের মহঃ সাব্বির আলম। রানিগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের কালোবরণ মন্ডলের সঙ্গে কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। এই কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন নারায়ণ বাউরি। বিজেপির তরফে এই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা বাকি। এবারেও পান্ডবেশ্বরে সম্মুখ সমরে তৃণমূলের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও বিজেপির জিতেন্দ্র তেওয়ারি। পান্ডবেশ্বরে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন প্রবীর মন্ডল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই পান্ডবেশ্বর এই জেলার অন্যতম হট সিট।এবার দুর্গাপুর পূর্বে রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের বিপক্ষে রয়েছেন বিজেপির চন্দ্রশেখর বন্দোপাধ্যায় ও সিপি সীমান্ত চট্টোপাধ্যায়।
দুর্গাপুর পশ্চিমে লড়াই হবে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন প্রার্থী কবি দত্ত ও বিজেপির লক্ষণ ঘোড়ুইয়ের মধ্যে। এই কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন প্রভাষ সাঁই। ইতিমধ্যেই এসইউসিআই এই জেলার নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। আসানসোল উত্তরে কল্লোল রায়, আসানসোল দক্ষিণে অনুপ ভট্টাচার্য, বারাবনিতে দেবস্বর বেশরা, পান্ডবেশ্বরে দোনা গোস্বামী, দুর্গাপুর পূর্বে কিরণময়ী মন্ডল ও দুর্গাপুর পশ্চিমে সোমনাথ বন্দোপাধ্যায় এসইউসিআইয়ের প্রার্থী হয়েছেন।

