রোটারি ক্লাব অফ আসানসোল গ্রেটারের উদ্যোগ, তিনদিনের কৃত্রিম অঙ্গ বিতরণ শিবিরের আয়োজন
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রোটারি ক্লাব আসানসোল গ্রেটারের উদ্যোগে আসানসোলের এসবি গরাই রোডের পার্বতী ম্যারেজ হলে তিনদিনের একটি বিনামূল্যে কৃত্রিম অঙ্গ বিতরণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে ” সক্ষম” নামে এই শিবিরের প্রদীপ জ্বালিয়ে উদ্বোধন করেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের সেক্রেটারি মহারাজ স্বামী সৌমাত্বানন্দজী। এই শিবিরটি কলকাতার মহাবীর সেবা সদনের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়। রোটারি ক্লাব অফ আসানসোল গ্রেটারের সভাপতি শচীন রায়, সম্পাদক বিশ্বরঞ্জন দাসগুপ্ত, কোষাধ্যক্ষ জয়ন্তী চৌধুরী, স্বপন চৌধুরী সহ সংগঠনের অন্যান্য পদাধিকারী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।














এছাড়াও আসানসোল নর্থ পয়েন্ট স্কুলের অধ্যক্ষা মিতা রায়, আসানসোল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সচিব বিনোদ গুপ্ত, সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সতপাল সিং কীর, পিঙ্কি, শহরের প্রবীণ আইনজীবী অমিতাভ মুখোপাধ্যায় , রাজ্য রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভিকে ঢল , বিশ্বখ্যাত পাওয়ার লিফটার সীমা চট্টোপাধ্যায় , জগদীশ বাগরি সহ আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত। অনুষ্ঠানে ৬০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে কৃত্রিম অঙ্গ প্রদান করা হয়। রোটারি ক্লাব অফ আসানসোল গ্রেটারের পক্ষ থেকে সকল বিশেষ অতিথিদের সম্মান জানানো হয়।

এই উপলক্ষে, শচীন রায় এই শিবির আয়োজন করার জন্য দুর্গাপুরের সুবীর রায় এবং মহাবীর সেবা সদনকে ধন্যবাদ জানান। শচীন রায় বলেন, মহাবীর সেবা সদনের সহযোগিতা ছাড়া এই অনুষ্ঠানটি এত সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। যখন এই শিবির আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছিল, তখন হাত ও পা দুটোই দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু কৃত্রিম হাতের জন্য মাত্র তিনটি আবেদন পাওয়া গেছে। তাই, বর্তমানে কৃত্রিম হাত দেওয়া হচ্ছে না। কারণ অন্তত ১০টি কৃত্রিম অঙ্গের অর্ডার পেলেই কেবল তা দেওয়া সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে, এই সংখ্যা ১০-এ পৌঁছালেই তা করা হবে। তিনি বলেন, সংস্থাটি যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য সময়ে সময়ে এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
বিশ্বখ্যাত পাওয়ার লিফটার সীমা চট্টোপাধ্যায় এই শিবির আয়োজন করার জন্য রোটারি ক্লাব অফ আসানসোল গ্রেটারের সভাপতি শচীন রায় এবং সকল কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনার শিকার হওয়া মানুষদের জীবনের মূলধারায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য তারা যেভাবে কাজ করছেন, তা অপরিসীম প্রশংসার যোগ্য। এর প্রশংসা করে শেষ করা যাবে না। এদিকে, আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের সচিব স্বামী সৌমত্মানন্দ জি মহারাজ বলেন, শচীন রায়েয়ের নেতৃত্বে রোটারি ক্লাব অফ আসানসোল গ্রেটার যেভাবে এই কাজটি হাতে নিয়েছে, তার জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট হবে না।
তিনি বলেন, সমাজে ঈশ্বরের আশীর্বাদপুষ্ট এবং সম্মানিত অনেক মানুষ আছেন। কিন্তু অন্যের জন্য কিছু করার ইচ্ছা খুব কম মানুষেরই থাকে। স্বামী বিবেকানন্দও বলেছেন যে, যারা সমাজের জন্য কাজ করেন তারাই প্রকৃত মানুষ। এই ধরনের কাজের মাধ্যমেই প্রকৃত সমাজসেবা করা হয়। তিনি বলেন, কৃত্রিম অঙ্গের সাহায্যে মানুষ আবার আগের মতো জীবনযাপন করতে পারবে, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের।

