জামুরিয়ায় ভোট প্রচারে সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা, গাড়িতে নীল বাতি, বিতর্ক
বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ
বেঙ্গল মিরর, জামুড়িয়া, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার সন্ধ্যায় প্রথম জামুরিয়ায় ভোট প্রচার করলেন আসানসোলের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি এক সভায় দলের প্রার্থী হরেরাম সিং ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের উপস্থিতিতে কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।সভায় রাখতে গিয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, হরেরাম সিংয়ের জয় নিশ্চিত। সেই জয় নিশ্চিত করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।তিনি পরে সংবাদমাধ্যমকেও নিশানা করে বলেন যে বাংলায় দাঙ্গা ও অশান্তির খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর মতে, রাজ্যে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বিরাজ করছে। বাংলায় মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করছে।














সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে বলেন, এর ফলে এই নির্বাচন গত ১৫-২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি এও বলেন, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি এক হয়ে গেছে।তিনি আরো দাবি করেন , বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন।
শত্রুঘ্ন সিনহা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যেমন স্বাস্থ্য সাথী, সবুজ সাথী, কন্যাশ্রী এবং রূপশ্রীর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের সকল শ্রেণীর মানুষকে উপকৃত করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ২২,০০০ কোটি টাকা আটকে রেখেছিলো। যা রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দিয়েছে।সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরো বলেন , সারা দেশের অনেক রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বাংলায় এটা হতে দেওয়া হবে না।
আসানসোলের বিজেপি সাংসদের দাবি, যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আছেন, ততদিন বিজেপি এখানে ক্ষমতায় আসতে পারবে না।অন্য দিকে, বাংলায় এই সময় মডেল কোড অফ কনডাক্ট বা নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও তাঁর গাড়িতে নীল বাতি থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এই প্রসঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, সবে মাত্র বাংলায় এসেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরেই সাংসদের গাড়ি থেকে নীল বাতিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে, জামুরিয়ায় বিজেপি প্রার্থী ডঃ বিজন মুখোপাধ্যায় তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন , নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর কোনো নেতারই নীল বাতি ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল নেতারা নিয়ম লঙ্ঘন করছেন। বিজেপির তরফে গোটা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে একটি অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে পদ্ম প্রার্থী জানিয়েছেন।

