আসানসোলে আদিবাসী যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ পরিবারের, চাঞ্চল্য
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল উত্তর থানার কন্যাপুর পুলিশ ফাঁড়ির পাঁচগাছিয়ার রায় ময়দান থেকে মঙ্গলবার সকালে এক আদিবাসী যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আসানসোল উত্তর থানার পাঁচগাছিয়ার কাপটিয়ার বাসিন্দা মৃত যুবকের নাম বিষ্ণু হেমব্রম ( ২৫)। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসানসোল উত্তর থানা ও কন্যাপুর ফাঁড়ির পুলিশ। পরে এলাকায় আসেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস সহ অন্য পুলিশ আধিকারিকরা। আসেন পাঁচগাছিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোরঞ্জন বন্দোপাধ্যায়।














মাঠের যে জায়গায় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়, সেই এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ । পাশাপাশি এলাকায় ঐ যুবকের পরিবারের সদস্য, আত্মীয় পরিজনের পাশাপাশি আদিবাসী মানুষেরা সেখানে ভিড় জমান। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায়।ঘটনাস্থল থেকে একটি মদের বোতল এবং কয়েকটি প্লাস্টিকের গ্লাস উদ্ধার করা হয়েছে। তা দেখে অনুমান করা হচ্ছে, ঐ যুবক ঘটনাস্থলে একা ছিলেন না। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, সোমবার রাতে এই রায় ময়দানে বসে বিষ্ণু হেমব্রোম সহ অন্যরা মদ্যপান করছিলো।
সেই সময় কোন কারণে তাদের মধ্যে বিবাদ থেকে মারামারি শুরু হয়। এবং সেই মারামারিতেই যুবক খুন হয়ে থাকতে পারে। যদিও ঘটনাস্থল থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। মৃত যুবকের মোবাইল ফোন পাওয়া যায় নি। এর ফলে ঘটনা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।মৃতের পরিবারের দাবি, বিষ্ণু হেমব্রম পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলো । তার সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। তাকে খুন করা হয়েছে। সোমবার সকালে সে বাড়ি থেকে কাজে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিলেন। পরে বাড়ি ফিরে আসবে বলেছিলো। কিন্তু সে আর বাড়ি ফেরেননি। তার মোবাইলে বাড়ির লোকের ফোন করেছিলো।
কিন্তু ফোন সুইচড অফ বলে। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের কাছে খবর আসে যে তার দেহ রায় ময়দানে পড়ে রয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রায় ময়দানে ছুটে আসেন। তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে ।এদিকে, পাঁচগাছিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এই রায় ময়দান ফাঁকা জায়গা। রাতে এখানে বাইরের লোকেরা আসে। তবে, এখানে যে মদ বিক্রি করা হয়, তা জানা ছিলোনা। পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এদিকে, পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে। আশপাশের মানুষদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সোমবার রাতে ঐ যুবক কাদের সঙ্গে ছিলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ এক আধিকারিক জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে, খুনের মামলা করা হবে। এর পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পেলে ঠিক জানা যাবে, কি করে যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

