ASANSOLBARABANI-SALANPUR-CHITTARANJAN

ভোটের মুখে সালানপুরে ফের ভয়াবহ ধস, পুনর্বাসনের দাবি এলাকার বাসিন্দাদের বিক্ষোভে বন্ধ ইসিএলের উৎপাদন ও পরিবহণ

*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ভোটের মুখে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর ব্লকের সামডি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ধসের ঘটনা ঘটলো। সোমবার সকালে এই ভয়াবহ ধসের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এবার ধসের ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দুপুরের দিকে সামডি গ্রামের প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন ‘ল হাট’ কালী মন্দিরের ঠিক সামনে। পরে আশপাশের এলাকায় ধসের জেরে ফাটল তৈরি হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সামডির গ্রামবাসীরা। নিজেদের নিরাপত্তা এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবিতে সোমবার সকাল থেকেই ইসিএলের কয়লা খনির উৎপাদন ও পরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই সামডির এই বিস্তীর্ণ এলাকা ধসপ্রবণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবিবার দুপুরে শতাব্দী প্রাচীন কালী মন্দিরের সামনের জমি হঠাৎ করেই বসে যায়। মন্দিরের পাশেই রয়েছে শ্মশান ঘাট। ধসের ফলে সেই এলাকাটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা গ্রাম জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দাদের দাবি, যে কোনো মুহূর্তে বড়সড় বিপর্যয় ঘটে প্রাণহানি হতে পারে।এদিন বিক্ষোভে শামিল হয়ে গ্রামবাসী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা জনার্ধন মণ্ডল ইসিএল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, এর আগে একাধিকবার ইসিএল আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছিলো। কর্তৃপক্ষ বারবার পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। ৩০০ বছরের পুরনো মন্দির এবং শ্মশান ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্রামবাসীদের আবেগ ও নিরাপত্তা, দুই আজ সংকটে।”অবিলম্বে পুনর্বাসন চাই”, এই একদফা দাবিতে এদিন সকালে কয়লাখনির কাজ বন্ধ করে দেন গ্রামবাসীরা।

তাদের সাফ কথা, যতক্ষণ না পর্যন্ত ইসিএল কর্তৃপক্ষ স্থায়ী ও নিরাপদ পুনর্বাসনের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং কাজ শুরু করছে, ততক্ষণ উৎপাদন ও পরিবহণ বন্ধ থাকবে।ঘটনার জেরে সামডি এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে । গ্রামবাসীদের অভিযোগ ও এই ধসের ঘটনা নিয়ে ইসিএল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ধসের ঘটনার পরে গোটা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, গোটা বিষয়টি নিয়ে ইসিএল কতৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *