ASANSOL

৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা উজ্জীবিত আসানসোলের বিজেপি নেতৃত্ব ও প্রার্থীরা

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের ১৯ নং জাতীয় সড়কের শীতলা এলাকায় আসানসোল সাংগঠনিক জেলা বিজেপি কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে একটি সাংবাদিক সম্মেলন হয়। জেলা বিজেপি সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে হওয়া এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রার্থী হিসেবে আসানসোল উত্তরের কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় , আসানসোল দক্ষিণের অগ্নিমিত্রা পাল , জামুরিয়ার ডাঃ বিজন মুখোপাধ্যায়, রানিগঞ্জের পার্থ ঘোষ, কুলটির ডাঃ অজয় পোদ্দার ও বারাবনির বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায় উপস্থিত ছিলেন।

দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন , আগামী ৯ এপ্রিল দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসানসোলে একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন। তাঁর নির্বাচনী জনসভা আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডে হবে। এই সভায় এক লক্ষ মানুষ আসবেন।সেই মতো ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের সকল প্রার্থীর থাকার কথা ছিলো। পাণ্ডবেশ্বর থেকে শুধু জিতেন্দ্র তিওয়ারি উপস্থিত নেই। কারণ এদিন তার মনোনয়ন পত্র স্ক্রুটিনির দিন। জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানিয়েছেন যে তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত থাকতে চান।

যাতে তৃণমূল কংগ্রেস কোনো কারচুপি করতে না পারে।জেলা বিজেপি সভাপতি বলেন, আসানসোলের বিজেপি নেতা ও কর্মীদের জন্য এটা একটি সৌভাগ্যের বিষয় যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসানসোলের জনসভায় ভাষণ দেবেন। এছাড়াও, পুরুলিয়া জেলা ও দুর্গাপুর পূর্ব, দুর্গাপুর পশ্চিম ও গলসি বিধানসভার বিজেপি প্রতিনিধিরাও এই জনসভায় উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী পুরুলিয়াতেও পরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা করতে পারেন। দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসানসোল সফর এটাই প্রমাণ করে যে, বিজেপি বাংলার নির্বাচনকে কতটা গুরুত্ব দেয়।

তাদের কাছে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের সবকটি বিধানসভার গুরুত্ব কতটা। প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি চলছে। নিরাপত্তা কর্মীরা ইতিমধ্যেই এসপিজি পোলো গ্রাউন্ডের দায়িত্ব নিয়েছে। বৈধ কোন কারণ ছাড়া সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছেনা । প্রখর রোদে যাতে কারও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য একটি বড় হ্যাঙ্গার লাগানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা থাকবে। একটি মেডিকেল টিমও উপস্থিত থাকবে। দশটি এ্যাম্বুলেন্স রাখা থাকবে।

বেশ কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সভায় এসে যদি কেউ কোনো শারীরিক অস্বস্তি বোধ করেন, তবে তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো বলেন, এলাকার সমস্ত বিজেপি নেতা ও কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সভা নিয়ে উৎসাহিত। তারা অপেক্ষা করে আছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসন্ন নির্বাচনের জন্য তাদেরকে কি দিক নির্দেশ দেন। সব মানুষ তা শোনার জন্য উৎসুক। জেলা সভাপতির সাংবাদিক সম্মেলনে সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীরাও একে একে তাদের বক্তব্য রাখেন। তারা সকলেই বলেন যে, আমরা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করবে।

তাদের দাবি, বিজেপি আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা আসনেই জিতবে। তার আরো বলেন যে, আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ মনস্থির করে ফেলেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। তা আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এখন মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। এমনকি সংখ্যালঘু ভোটাররাও, যাদের সমর্থনে তৃণমূল কংগ্রেস এতোদিন ক্ষমতায় রয়েছে, তারাও এখন ঐ দলের বিরুদ্ধে চলে গেছেন। এই কারণেই রেলপার এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ এবারের নির্বাচনে লড়ছেন। কারণ তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের আসল চেহারা চিনে ফেলেছেন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা বুঝতে পেরেছেন যে, শুধুমাত্র তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে। তাঁদের যথাযথ উন্নয়নের ব্যবস্থা করে না। তাই সংখ্যালঘুরাও এখন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি মোহমুক্ত হয়ে পড়েছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে আসানসোল উত্তরের বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একই নামে আরো দুজন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তার উত্তরে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি এই বিষয়টি জানতে পেরেছি।

শুধু আমিই নই , আসানসোল উত্তরের সমস্ত মানুষই বোঝেন কার নির্দেশে একই নামে এত প্রার্থীকে দাঁড় করানো হচ্ছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না। আসানসোল উত্তরের মানুষ বোকা নন। তারা জানেন কাকে ভোট দিতে হবে। কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের পক্ষেই ভোট দিতে হবে। তারা পদ্ম প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে চেনেন না। তবে বিজেপি প্রার্থী বলেন, আমাকে এই ভয় পাওয়াটা বেশ ভালো লাগছে। যে কারণে এই কাজটি করা হয়েছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *