চাঞ্চল্য দুর্গাপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* শ্বশুরবাড়িতে জামাইয়ের রহস্য মৃত্যু! ঘরের ভেতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ঐ যুবকের মৃতদেহ। মদ্যপ অবস্থায় আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক অনুমান পরিবারের সদস্যদের। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনায় পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের গোগলা অঞ্চলের রসিকডাঙ্গা গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃত যুবকের নাম পূজন কুমার চৌধুরী ( ৩০) । শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে।














পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুজন কুমার চৌধুরী নামে ঐ যুবক আদতে গয়া জেলার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে তিনি দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকে রসিকডাঙ্গা গ্রামে থাকতেন। ঐ গ্রামের বাসিন্দা কাজল কুমারীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মঙ্গলবার ঐ যুবক শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। পেশায় তিনি একজন খেজুর রস সংগ্রহকারী ছিলেন। মঙ্গলবার তাকে ঘরের মধ্যে গলায় দড়ি দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। মৃত যুবকের শাশুড়ির বলেন, পুজন কুমার চৌধুরী আমার জামাই ছিলেন।

কারো সাথে তার কোনো ঝগড়া হয়নি। স্রেফ নেশার ঘোরে গলায় দড়ি লাগিয়ে নিয়েছে ও। আমরা বুঝতেই পারিনি ও এমন কিছু করবে। মৃতের স্ত্রী কাজল কুমারীর বক্তব্য, আমাদের বিয়ে ১০ বছর হয়ে গেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা/৬টা নাগাদ ও নিজের ঘরে একা ছিল। আমরা বাড়ির অন্য অংশে ছিলাম। প্রচণ্ড নেশা করেছিল। সেই নেশার ঘোরেই এই কাণ্ড করেছে স্বামী বলে দাবি তার। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লাউদোহা থানার পুলিশ।
দেহটি উদ্ধার করে দুর্গাপুর জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি নিছকই আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় নেশার ঘোরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পূজন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে । শ্বশুরবাড়িতে এসে যুবকের এই রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

