ASANSOL

আসানসোলের সভা থেকে বাংলায় পরিবর্তনের ডাক নরেন্দ্র মোদির, মাফিয়া ও জঙ্গল রাজ শেষ করে শিল্প ও ঐতিহ্য ফেরাবে বিজেপি

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজয় সংকল্প সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মা কল্যাণেশ্বরী ও মা ঘাঘর বুড়িকে প্রণাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করে তিনি। তিনি বলেন , গোটা বাংলা আজ পরিবর্তনের জন্য ছটফট করছে। আসানসোলের এই জনসমাগম তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিন তার ভাষণে বারবার উঠে আসে আসানসোল ও দুর্গাপুরের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং সিন্ডিকেট মুক্ত বাংলার কথা।আসানসোলের গরিমা ফেরানোর লড়াইয়ের কথা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, আসানসোল একসময় সাইকেল, কাঁচ, অ্যালুমিনিয়াম ও কয়লা খনির জন্য বিখ্যাত ছিল। সারা দেশের যুবকরা এখানে কর্মসংস্থানের খোঁজে আসতেন। কিন্তু আজ সেই চাকা থমকে গেছে। এখন বাংলা থেকে ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। তাঁর প্রতিশ্রুতি, বিজেপি সরকার আসানসোলকে তার হারানো গরিমা ফিরিয়ে দেবে। আর গ্যারেন্টি হলো কয়লা ও বালি মাফিয়াদের হাত থেকে এই অঞ্চলকে মুক্ত করা হবে।

এই শিল্পাঞ্চলের বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করার দিশা দেখাবে বিজেপি।রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগে মোদি বলেন, গোটা দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তৃণমূল তখন বাংলাকে পেছনের দিকে ঠেলছে।” তার অভিযোগ, আগে বাংলার আয় গোটা দেশের আয়ের ১০০ টাকার মধ্যে ১২ টাকা ছিলো। এখন তা ৫ টাকায় নেমে এসেছে কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূলের কুশাসনে।বাংলার সাধারণ মানুষের যা পাওয়ার কথা তা লুট করে শাসক দলের মন্ত্রীদের বড় বড় বাংলো তৈরি হচ্ছে। আসানসোলের কয়লা অঞ্চল আজ সিন্ডিকেটের কবজায়। এই লুটেরাদের হিসাব এবার জনতা নেবে। তার কথায় ” সবকা সাথ সবকা বিকাশ ” র সঙ্গে সবকা হিসাব বি হোগা “।

বিজেপি সরকারে এলে আসানসোল-দুর্গাপুরকে ‘মেগা সিটি’ করার কথা বলে বিকাশের রোডম্যাপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের খতিয়ান দেন।তিনি বলেন, এবার হবে বিকাশের ডবল ইঞ্জিন। ৪৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, গ্যাস পাইপলাইন কানেক্টিভিটি এবং দুটি বন্দে ভারত ট্রেনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অমৃত ভারত প্রকল্পের অধীনে আসানসোল স্টেশনের আধুনিকীকরণ এবং ইএসআই হাসপাতালকে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। আসানসোল ও দুর্গাপুরকে মিলিয়ে একটি ‘মেগা সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।নারী নিরাপত্তা ও সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মোদি। তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার ধর্ষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। যে কারণে এখন বাংলা মা ও বোনেরা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় পাচ্ছে। আসানসোলের বিপ্লবী বিমলা প্রতিভাদেবীদের সম্মান দেয় না তৃণমূল সরকার। বিজেপি সরকার এলে এখানকার মহিলারা আত্মনির্ভর হবে এবং সুরক্ষিত থাকবে।

অনুপ্রবেশ, তুষ্টিকরণ রাজনীতি সঙ্গে বাংলার সীমান্ত সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিয়ে এখানকার হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। পুজো-পার্বণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একটা সম্প্রদায়কে সামনে এনে হিন্দুদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিজেপির গ্যারান্টি হলো পশ্চিমের মতো এবার দেশের পূর্ব সীমান্তকেও সুরক্ষিত করা হবে। ৪ মে-র পর বাংলায় হবে “আসল আইনের শাসন”।মালদহে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেন, তৃণমূল বাংলায় জঙ্গলরাজ কায়েম করেছে। তারা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গালি দিচ্ছে। ৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপি সরকার আসার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “এবার গুণ্ডাদের হিসাব হবে এবং রাজ্যে কাটমানি খেলা বন্ধ হবে।””পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার”, এই স্লোগান তুলে প্রধানমন্ত্রী ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তাঁর দাবি, এই ভোট শুধু সরকার বদলানোর জন্য নয়, বরং বাংলার নিরাপত্তা এবং শিল্পাঞ্চলের সমৃদ্ধি ফেরানোর লড়াই। বাংলায় এবার সব কা সাথ সবকা বিকাশ তো হবেই, তবে বাংলার অনিষ্টকারী লুটেরাদেরও হিসাব হবে।এদিনের সভায় দলের তরফে প্রধানমন্ত্রীকে মা দুর্গা ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি দেওয়া হয়। সভায় স্বাগত ভাষন দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। ছিলেন আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয়টি বিধানসভা সহ পূর্ব বর্ধমান ও বাঁকুড়ার মোট ১১ জন প্রার্থী। সভার বক্তব্য রাখার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, জিতেন্দ্র তেওয়ারি সহ এগারো জন প্রার্থীকে নিয়ে হাত তুলে স্লোগান দেন।

Social Share or Summarize with AI

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *