আসানসোলে নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের বিরোধিতা তৃণমূলের প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে পাল্টা আক্রমণ
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* দলের প্রার্থীদের সমর্থনে আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজয় সংকল্প সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সভায় তিনি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলাকে লুট করেছে। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতে যখন বাংলায় সরকার গঠন করবে, তখন দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিটি ঘটনার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।











তিনি আরো বলেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে বাংলা পিছিয়ে পড়েছে। এর জন্য তৃণমূলই একমাত্র দায়ী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার কয়েক ঘন্টার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোলের জিটি রোডের রাহা লেন মোড় সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা পান্ডবেশ্বরের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এবং আসানসোল উত্তরের প্রার্থী বিদায়ী মন্ত্রী মলয় ঘটক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে পাল্টা আক্রমণ করেন।



সাংবাদিকদের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন , এদিন আসানসোলে বাংলা ও এখানকার মানুষ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্যের যতটা নিন্দা করা যায়, তা কম হবে। তিনি বলেন , একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি আটকে রেখেছে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বড় বড় কথা বলছেন। টাকা না দিয়ে এর মাধ্যমে কেন্দ্রের মোদী সরকার বাংলার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তারা বাংলার মানুষকে হয়রানি করতে চায়। তিনি আরো বলেন , বিজেপির আইটি সেলের প্রধান বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশি ভাষা বলছেন। এতেই বোঝা যায় বাংলা এবং বাঙালি জনগণের প্রতি বিজেপি নেতাদের কতটা ঘৃণা।
নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন , বিজেপি এমন একটি দল যার কর্মীরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে রবীন্দ্রনাথ সান্যাল এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিম দা বলে ডাকে। যখন বাংলার একজন বাঙালি অন্য রাজ্যে কাজ করতে যায়, তখন তাকে সেখানে মারধর করা হয়, আর বিজেপি বাংলার স্বার্থের কথা বলে। এটা সম্পূর্ণ হাস্যকর। তিনি এসআইআর প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর আরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন , ‘প্রধানমন্ত্রী’ শব্দটি নিয়ে বাংলার মানুষের কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি যেভাবে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত ও হয়রানি করেছেন, তা অবশ্যই তাঁদের কষ্ট দেয়।
আজ প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন নির্বাচনের পর হিসাব দিতে হবে। কিন্তু তার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বাংলার মানুষের কাছে হিসাব দিতে হবে যে, কেন তিনি বাংলার অধিকার হিসেবে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি আটকে রেখেছেন। তাঁকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন বৈধ বাঙালি ভোটারদের এসআইআর লাইনে দাঁড় করানো হয়েছিল। যে কারণে প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়। এই সমস্ত মৃত্যুর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জবাবদিহি করতে হবে।
বাংলার মানুষ কিছুই ভোলেননি। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটের দিন এখানকার মানুষ অবশ্যই বিজেপিকে তার জবাব দেবে।এদিকে, মলয় ঘটক বলেন , প্রধানমন্ত্রী এই প্রথমবার বাংলার মানুষের কাছে মিথ্যা বলেননি। তিনি আগেও বহুবার মিথ্যা বলেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে প্রতি বছর ২ কোটি মানুষ কর্মসংস্থান পাবে। কিন্তু তা পায়নি। প্রত্যেক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা জমা হবে। কিন্তু সেটাও আসেনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ হয়নি। আজ তিনি আরো নতুন কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মলয় ঘটক বলেন, নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে তার পুরনো প্রতিশ্রুতিগুলো মনে করেন। সেগুলো পূরণ করে, তারপর জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া ভালো হবে। কিন্তু এখন জনগণ বুঝে গেছেন, বিজেপির এই ভণ্ড নেতাদের প্রতিশ্রুতি জনগণ বিশ্বাস করবে না। আর এবারও ২০২১ সালের মতো বাংলায় বিজেপির পরাজয় ঘটবে। চতুর্থ বারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

