জামুড়িয়ায় দলের প্রার্থীর সমর্থনে সভায় সাংসদ সায়নী ঘোষ, বিজেপির সমালোচনা, সংবিধান ও বাংলাকে বাঁচানোর আহবান
বেঙ্গল মিরর, জামুড়িয়া চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ভারতীয় সংবিধান বাঁচাতে হলে, বাংলাকে বাঁচাতে হবে। তা একমাত্র পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার যাদবপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুড়িয়ার দলের প্রার্থী হরেরাম সিংয়ের সমর্থনে প্রচারে এসে এমনটাই বললেন। তিনি জামুরিয়া ব্লক ২-এর চিচুঁড়িয়া দলদলি ময়দানে একটি জনসভায় বক্তব্যও রাখেন । অভিনেত্রীর এক ঝলক দেখার জন্য সেখানে বিপুল সংখ্যায় মানুষের সমাগম হয়েছিল। অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ চিচুঁড়িয়া সুভাষ সমিতি ক্লাবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিতে মাল্যদান করেন।














এর পাশাপাশি তিনি মন্দিরে পুজোও দেন।পরে জনসভায় তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তাই জনগণকে তাঁর নেতৃত্বে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের আহ্বান জানান। তিনি ২০২১ সালে জামুরিয়ায় টিএমসি সাংসদ হরেরাম সিংয়ের জয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন , গত ৪৪ বছরে জামুরিয়ায় বামেরা ছাড়া আর কেউ জেতেনি। যা হরেরাম সিং ভেঙে দিয়েছেন।
তিনি হরেরাম সিংকে একজন কিংবদন্তি হিসেবে বর্ণনা করেন এর পাশাপাশি সাংসদ অভিনেত্রী আশা প্রকাশ করেন, এবারও হরেরাম সিং জামুরিয়ায় জয়ী হবেন। তিনি আরো বলেন , তৃণমূল কংগ্রেস সকল ধর্ম ও বর্ণের দল। ভারতের সংবিধানকে বাঁচাতে হলে বাংলাকে বাঁচাতে হবে। একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাকে বাঁচাতে পারেন। সুতরাং, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঁচাতেই হবে।
এসআইআর থেকে ৯১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার ইস্যুতে তিনি বিজেপিরও সমালোচনা করেন। সাংসদ বলেন , যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু। সুতরাং, বিজেপি যদি হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষা করতো , তাহলে ভোটার তালিকা থেকে এমন নাম বাদ দেওয়া হতো না। তিনি বলেন, বিজেপি চায় বাংলার মানুষ তাদের সামনে মাথা নত করুক। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
তাই তাদের মাথা কেটে ফেলা হলেও তারা মাথানত করবে না। একই সঙ্গে বামেদের ৩৪ বছরের শাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন , বামেরা যেভাবে দমন-পীড়ন করেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেভাবেই বামদের সমূলে উৎখাত করেছেন। বিজেপি তার সামনে কিছুই নয়। তিনি বলেন, সরকারের কাজ হলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে তাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা নয়। সায়ানি ঘোষ বলেন , বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ব্রিটিশদের মতো করে ভারত শাসন করতে চায়। কিন্তু বাংলার মানুষ ব্রিটিশদের তাড়িয়ে দিয়েছিল।
এবার বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকেও তাড়িয়ে দেবে। যদি কোনো বিজেপি নেতা এসে বলেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তারা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের অধীনে ৩০০০ টাকা দেবে, তাহলে সেই বিজেপি নেতাকে বলুন প্রথমে ১৫০০ টাকা অগ্রিম দিতে। কারণ বিজেপি সরকার হলো একটি জুমলা সরকার। তাদের দেওয়া একটিও প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয় না। যেমন তারা বলেছিল যে অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা জমা দেওয়া হবে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত এক পয়সাও আসেনি।
তার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলার যে সেবা করেছেন, তাতে চতুর্থবারের মতোও তিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন। শুধু তাই নয় তিনি সকলের আশীর্বাদ পেলে দেশের প্রধানমন্ত্রীও হয়ে যাবেন। এদিনের সভায় সাংসদ শুধু তাঁর প্রতিপক্ষদেরই আক্রমণ করেননি, বরং গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হওয়া উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণও দিয়েছেন। তিনি জামুনিয়ার জনগণকে দ্বিতীয়বারের মতো হরেরাম সিংকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত করার অনুরোধ করেন।

