স্মার্ট মিটারে জেরবার রেল শহরের ব্যবসায়ীরা, ক্ষতিগ্রস্তদের বিক্ষোভ বিদ্যুৎ দপ্তরে সুরাহার দাবি
*বেঙ্গল মিরর, চিত্তরঞ্জন, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* স্মার্ট মিটার নিয়ে জেরবার রেল শহর চিত্তরঞ্জনের আমলাদহি বাজারের ব্যবসায়ীরা। সুরাহার দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার একযোগে পৌঁছালেন চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা বা সিএলডব্লুর আমলাদহি বিদ্যুৎ বিভাগে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষ বাজারে স্মার্ট মিটার লাগালেও তার ফলে ব্যবসায়ীরা লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বেশি। তারা বলেন, সম্প্রতি তিন/চার দিন হলো আমরা বাজারের ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। কারণ স্মার্ট মিটারের নিয়ম অনুযায়ী টাকা শেষ হওয়ার আগেই রিচার্জ না করলে বিদ্যুৎ সংযোগ আপনা আপনিই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আমলাদহি বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়েও রিচার্জ করাতে পারছেন না।














সেখানকার নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকা কর্মী ও আধিকারিকেরা বলছেন বিষয়টি তাদের হাতে নেই। সমস্ত নিয়ন্ত্রণ রেল কর্তৃপক্ষের হাতে আছে। যান্ত্রিক কারণে অনলাইন পেমেন্ট যন্ত্র অকেজো হয়ে যাওয়ায় রিচার্জ করা যাচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎহীন বাজারে একাধিক আইসক্রিমের দোকান হাজার হাজার টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। অকেজো হয়ে আছে বিউটি পার্লারও। এমনকি বিদ্যুৎ চালিত অটোমেটিক ওজন মাপক যন্ত্রগুলিও কাজ না করায় ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাজার সমিতির সম্পাদক পার্থ মন্ডল দাবি করেছেন রিচার্জের সুবিধা রেলের হাতে না রেখে দোকানদারদের হাতেই দেওয়া হোক যাতে তারা নিজেরাই অনলাইনে রিচার্জ করে নিতে পারেন, অথবা আগের মত ম্যানুয়াল মিটার বসিয়ে দেওয়া হোক দোকানে দোকানে। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন মাসের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন বিদ্যুৎ বিভাগ ধার্য করেছে দোকানদারদের স্মার্ট মিটার রিচার্জ করার জন্য। তাও বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টা মাত্র এক ঘণ্টার জন্য।
এর পরিবর্তে প্রতিদিনই বিদ্যুৎ বিভাগে একজন কর্মীকে সকাল ১১ টা থেকে বসানো হোক যিনি দায়িত্ব নিয়ে দোকানদারদের স্মার্ট মিটার রিচার্জ করবেন। বিষয়গুলি নিয়ে বিদ্যুৎ আধিকারিকদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে স্মার্ট মিটার নিয়ে এই বিপত্তিতে চরম বিক্ষুব্ধ রেল শহরের অন্যতম বৃহত্তম ব্যবসা ক্ষেত্র আমলাদহির ব্যবসায়ীরা।


