ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতে আসানসোলের মেয়র বললেন, তৃণমূল কংগ্রেসেই আছি, জল্পনা
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটকের পরে এবার আসানসোল পুরনিগমের মেয়র তথা বারাবনির প্রাক্তন বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়। তার সোমবার কলকাতায় গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার পরেই আসানসোলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাহলে কি, বিধান উপাধ্যায়ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে ঢুকে পড়লেন? মঙ্গলবার সকালে আসানসোল পুরনিগমে মেয়রের চেম্বারে বসে বিধান উপাধ্যায় ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার কথা স্বীকার করেন। তাদের মধ্যে কথাও হয়েছে বলে জানান।














এর পাশাপাশি, তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসে আছেন। কিন্তু সেটা কোন তৃণমূল, তা এদিন খোলসা করেননি বিধান উপাধ্যায়। সম্প্রতি, রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক আসানসোল পুরনিগমে একটি নোটিশ পাঠায়। তাতে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে কেন গত ২ মাস ধরে বোর্ড মিটিং করা হচ্ছে না। এর প্রতিক্রিয়ায় এদিন বিধান উপাধ্যায় বলেন, ঐ নোটিশের উত্তরটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মে মাসে পুর কাউন্সিলরদের বোর্ড বৈঠক হয়নি। পুর চেয়ারম্যান জুন মাসে বোর্ড বৈঠক করতে নোটিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন কারণে তা হয়নি।
সবমিলিয়ে গত ২ মাস ধরে বোর্ড বৈঠক করা হয়নি। তবে সেই কারণে আসানসোল পুরনিগম এলাকায় কোন রকম নাগরিক সুবিধা ব্যাহত হয়নি। মানুষ যে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাও ঠিক নয়। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে চিঠির উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে। যদিও, অভিযোগ ছিলো যে, বিধানসভা নির্বাচনের পরে এখনো পর্যন্ত দুজন বোরো চেয়ারম্যান ও চারজন কাউন্সিলার তাদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। অনেক মেয়র পারিষদ ও কাউন্সিলার পুরনিগমে আসছেন না। তার উত্তরে মেয়র বলেন, যারা পদত্যাগ করেছেন, তার কারণ তারা বলতে পারবেন।
আর পুর পরিসেবা ও আধিকারিক ও কর্মীদের মাধ্যমে হয়। তারা তো কেউ সরে যাননি।এদিন বিধান উপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাওয়া হয় হয়েছিলো তিনি কি সোমবার কলকাতায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করেছেন? , তখন তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে আমার বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রে অনেক গণ্ডগোল হয়েছে। বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক কর্মী বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। যে কারণে সেখানে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে। আমি সোমবার কাজে কলকাতায় যাই। ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে ফোন করি।
তিনি তো রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আমি তো বিরোধী দলটাই করি। তাই আমার মনে হয়েছে, তার সঙ্গে দেখা করাটা উচিত। এই সমস্ত বিষয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তাকে আমি বারাবনি বিধানসভা ও আসানসোল পুরনিগমের কথা বলেছি। তিনি আমার কথা শুনেছেন। আশ্বাস দিয়েছেন, তার সাধ্য মতো করবেন। এইসব বিষয়ে তিনি কি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবহিত করেছেন? এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিষয়টি জানিয়েছি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তাকে সাহায্য করেননি বা কথা শোনেননি? তার উত্তর, তেমন নয়। তিনিও সব শুনেছেন। তাহলে কি বিধান উপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিলেন? এর জবাবে বিধান বলেন, আমি তৃণমূল কংগ্রেসে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। তবে, তা কোন তৃণমূল, তা তিনি এদিন স্পষ্ট করেননি। তবে, বিধান উপাধ্যায়ের ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ নিয়ে আসানসোলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।


