পশ্চিম বর্ধমান জেলা / মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে / আসানসোল পুরনিগমের১০৬ টি ওয়ার্ডের সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ / কোপে পড়লেন মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি, চেয়ারম্যান, বিরোধী দলনেতা সহ একাধিক কাউন্সিলার

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ১৭ জানুয়ারিঃ আসানসোল পুরনিগমের ১০৬ টি ওয়ার্ডের জন্য শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের তরফে সংরক্ষণের তালিকা প্রকাশিত করা হয়। জেলাশাসক শশাঙ্ক শেঠি জানিয়েছেন, ওয়েষ্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল আইন (১৯৯৪) অনুযায়ী ১০৬ টি ওয়ার্ডের জন্য সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কারোর যদি এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ বা আপত্তি থাকে, তাহলে তা লিখিত আকারে জেলাশাসকের দপ্তরে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। তারপর এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারী ওয়ার্ড সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। 
এদিন যে তালিকা প্রকাশিত করা হয়, তাতে দেখা যায় যে ১০৬ টি ওয়ার্ডের মধ্যে মোট ৩৬ টি ওয়ার্ড সংরক্ষণের খসড়া তালিকায় আছে। যারমধ্যে ২৮টি ওয়ার্ড সাধারণ মহিলা প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। ১৮ টি ওয়ার্ড এসসি বা তফসিলি জাতির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। তারমধ্যে ৬টি ওয়ার্ড এসসি মহিলা প্রার্থীদের জন্য। ৪টি ওয়ার্ড এসটি বা তফসিলি উপজাতি প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

riju advt

আর এই তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে শাসক দল থেকে বিরোধী দল সব শিবিরেই আলোড়ন পড়েছে। দেখা যাচ্ছে, মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি, পুর চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়, মেয়র পারিষদ পূর্ণশশী রায়, বোরো চেয়ারম্যান কৃষ্ণ প্রসাদ দাস, সমিত মাজি, বিরোধী দলনেতা তাপস কবি, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা ওয়াসিমুল হক সংরক্ষণের কোপে পড়েছেন। একই অবস্থা একাধিক শাসক দল তৃনমুল কংগ্রেসের কাউন্সিলারের। বামফ্রন্টের মধ্যে সিপিএমের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলারও সংরক্ষণের কোপে পড়েছেন। তবে বর্তমান আসানসোল পুরনিগমের বোর্ডে যে ৩ জন বিজেপির কাউন্সিলার আছেন, তাদের তিনটি ওয়ার্ড সংরক্ষণের খসড়া তালিকায় আসেনি। এছাড়াও এবারে সংরক্ষণের খসড়া তালিকায় আসানসোল পুরনিগমের যেসব কাউন্সিলাররা কোপে পড়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, শিবদাস চট্টোপাধ্যায়, বিবেক বন্দোপাধ্যায়, কাঞ্চনকান্তি তেওয়ারি, অভিজিৎ আচার্য, প্রিয়ব্রত সরকার, কল্যান দাসগুপ্ত, ভরত দাস।  
এই তালিকা হাতে পাওয়ার পরে মেয়র তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃনমুল কংগ্রেসের সভাপতি জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, তালিকা পেয়েছি। খতিয়ে দেখে তা রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হবে। তারা যেমন বলবে, পরবর্তীকালে তেমনই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে, আমরা পুর নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। 
বামফ্রন্টের তরফে সিপিএমের নেতা আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরী বলেন, তালিকা পেয়েছি। আইন মেনে  করা হয়েছে কিনা তা আলোচনা করছি। তেমন হলে অভিযোগ জানাবো। 
জেলা বিজেপির সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এই প্রসঙ্গে বলেন, এই তালিকা আইন মেনে করা হয়েছে কিনা, তা দলের মধ্যে আলোচনা করা হচ্ছে। বেআইনী কিছু হলে, অবশ্যই অভিযোগ জানাবো।  অন্যদিকে, কোপে পড়া আসানসোল পুরনিগমের চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় ও মেয়র পারিষদ পূর্ণশশী রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ মেনে দলের নির্দেশ মতো কাজ করেছি। এবার দল যা বলবে তাই করবো। 
প্রসঙ্গতঃ, আসানসোল পুরনিগম বোর্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে। পুরনিগমের ১০৬ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮৯ টি শাসক দল তৃনমুল কংগ্রেসের দখলে। ১০টি বামফ্রন্ট ও ৩টি বিজেপির দখলে আছে। ৩ জন কাউন্সিলার মারা গেছেন ও ১জন পদত্যাগ করেছে।