বেঙ্গল মিরর, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত, আসানসোল, ২৮ শে ফেব্রুয়ারিঃ পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল স্টেশনে বুধবার সন্ধ্যায় একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করার জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তিনি প্রথমে আসানসোল স্টেশনের ভেতরে ফলক উন্মোচন করে রিটার্নিং রুম, ডিজিটাল ট্রেন রিজার্ভেশান চার্ট ও ব্যাটারি চালিত গাড়ির উদ্বোধন করেন।
পরে তিনি স্টেশনের বাইরে পার্কিংয়ের কাছে রেস্টুরেন্ট অন হুইলসে্র উদ্বোধন করেন।
দেশের মধ্যে পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশন এই প্রথম পরিতক্ত্য মেমু বা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কামরায় রেস্টুরেন্ট করলো। দুটি কামরায় দু ধরনের রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। একটিতে নানা ধরনের চা পাওয়া যাবে। টি বোর্ডের অনুমোদিত একটি সংস্থা এটি করেছে।
পূর্বরেলে প্রথম,রেলের বগি দিয়ে তৈরি রেস্টুরেন্ট ‘চায় -চুঁন’ এবং ‘ওয়াও ভোজন ‘। পূর্ব রেলের দুটি কামরা দিয়ে সজ্জিতে এসি ও নন এসি রেস্টুরেন্টটি। হেরিটেজ তিলোত্তমা বাষ্পচালিত ইঞ্জিনটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে সামনে। রেস্টুরেন্টের বাইরে ট্রেন, আর ভেতরে দেখলে মনে হবে কোনও থ্রিস্টার হোটেলের ফুড কমপ্লেক্স।
ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে আসানসোল স্টেশন। শহরবাসীর স্টেশনের সৌন্দর্যতাই মুগ্ধ শহরবাসী রীতিমতো সেলফি জোনে পরিণত করেছেন স্টেশন চত্বরকে। পরিত্যক্ত রেলের বগি দিয়ে রেঁস্তোরা বা রেস্টুরেন্ট আরও আকর্ষণ বাড়িয়েছে আসানসোল স্টেশনের। দিল্লি, চেন্নাই ও পুনেতে মডেল স্টেশন শেডের কাফে তৈরি করে রেলের বগি দিয়ে রেঁস্তোরা এর আগে তৈরি হয়েছে। আসানসোল রেলডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী বলেন নতুন বছরে শহরবাসীকে আসানসোল রেলডিভিশন উপহার হিসাবে দিচ্ছেন এই অভিনব রেঁস্তোরাটিকে।
পূর্বরেলে প্রথম এই ধরণের অভিনব রেঁস্তোরা তৈরি হল আসানসোল স্টেশনে। ২৫ বছর পুরানো প্যাসেঞ্জার ট্রেনের বগিকে চিহ্নিত করে রেলের টিআরএস বিভাগের কর্মীরা করেছে রেঁস্তোরাটি। আসানসোল রেলডিভিশনের মতে অভিনব এই উদ্যোগে রেল পর্যটনে যেমন উন্নতি হবে আয়ও বাড়বে।
জানাগেছে ১৯৯৪ সালে ১১ জুলাই আসানসোল বর্ধমান মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু হয়েছিল। ২৫ বছরের পুরানো ওই বগিগুলি আর ট্র্যাকে ছোটানোর মতো অবস্থা নেই।
কয়েক মাস আগে টিআরএস শেডে ওই ট্রেনটি দেখে দুটি বগিকে নিয়ে রেঁস্তোরা তৈরির কথা সিদ্ধান্ত নেন ডিআরএম সুমিত সরকার। দুটি বগি রেখে বাকী বগিগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হয় হাওড়ার লিলুয়া শেডে। এই বগি দুটির একটি সাধারণ অন্যটি মোটরইঞ্জিনের বগি। ৫০ টন করে দুটি বগির ওজন রয়েছে। ৭২ ফুটের লম্বা ওই বগিগুলির ভেতর থেকে যাত্রী চেয়ারগুলি তুলে দেওয়া হয়। রং করে নিউ লুক দেওয়া হয়। এরমধ্যে একটি বগিতে এসি রয়েছে।
টিআরএস বিভাগের কর্মীরা বলেন রেস্টুরেন্টের ভেতরে ৩০ জন করে দুটি ভাগে বসানো যাবে ৬০ জনকে। এসি, মিউজিক সিস্টেম, পর্দা দিয়ে একেবারে রাজস্থানের মহারাজা ট্রেনের বগির মতো লুক নিয়ে আনা হয়েছে।ইতিমধ্যে ভার্টিক্যাল গার্ডেন, স্ক্র্যাপ মডেল পার্ক, এলইডি আলোর সাজে স্টেশন চত্বর সেজে উঠেছে। স্টেশনের ভেতরে প্রিমিয়াম লাউঞ্জ তৈরি হওয়ায় গোটা স্টেশনটি এয়ারপোর্টে ধাঁচের লুক নিয়েছে। এসব হয়েছে আসানসোলে ডিভিশনের নিজস্ব খরচায়। কয়েকদিন আগেই আসানসোল স্টেশনের সৌন্দর্যায়ন নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করে টুইটও করেছেন রেলমন্ত্রী পিযূষ গোয়েল।
বাবুল বুধবার বলেন, আসানসোল স্টেশনকে সাজাতে যা যা করার রেল তা করছে। যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে এইসব করা হচ্ছে।
তবে পরিশেষে বাবুল সুপ্রিয় এলাকার বিধায়ক এবং রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটকের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি দেখে একটু মনক্ষুন্ন এবং আশাহত হন যা তিনি প্রকাশ্যেই বলার সঙ্গেই এটাও বলেন মলয়বাবু থাকলে তার আরও ভালো লাগতো।
অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন আসানসোল ডিভিশনের ডিআরএম শ্রী সুমিত সরকার যিনি এই অভিনব প্রজেক্ট এর জন্যে সমস্ত টিমের সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ দেন।
এদিকে ” ওয়াও ভোজন” এর দায়িত্বপ্রাপ্ত চ্যাটার্জী গ্রুপ এর কর্ণধার সুব্রত চ্যাটার্জী ( বুলু) বলেন , ” তিনি এবং তার টিম খুব যত্ন করে আসানসোলের মানুষের কাছে তাদের পরিষেবা তুলে ধরেছেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে এবং ভবিষ্যতে আরো নতুনত্ব আনার প্রচেষ্টায় রয়েছেন।”
Mr. Chandan | Senior News Editor Profile
Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.