আসানসোলে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে মাথায় গুলি করে কিশোরকে হত্যা ; ঘরেই পাওয়া গেলো রক্তাক্ত মৃতদেহ

আসানসোল, বেঙ্গল মিরর, ২ রা জুন ২০২০, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত : গতকাল রাতে আসানসোলে হীরাপুর থানার অন্তর্গত রাধানগর রোডে চিত্রা সিনেমার পিছনের দিকে পাঞ্জাবী পাড়াতে নিজের বাড়ির ভেতরেই ১২ বছরের এক কিশোরের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরী হয়। মৃত কিশোরের কপালে গুলি লেগেছিল।

riju advt

বলা হচ্ছে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ওই কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে সূত্র মারফত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী মৃত কিশোরের নাম শরণদীপ সিং (১২)। মৃত কিশোরের পিতা ভূপিন্দর সিং  ছোট স্তরের জমি কেনা বেচার ব্যবসার এবং দালালির সঙ্গে যুক্ত এবং ভূপিন্দরের পত্নিবিয়োগ বছর দুয়েক আগেই হয়েছে। বাড়িতে তিনি এবং তার পুত্র থাকতেন।

   পুলিশ এই ঘটনায় মৃতের পিতা ভূপিন্দর সিং কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঘটনাস্থলে মৃতের কিছু আত্মীয় অভিযোগ করেন এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ওই মৃত কিশোরের পিতা ভুপিন্দর নিজেই ঘটিয়েছেন। এই অভিযোগের পর পুলিশও কিছুটা হতবাক হয়ে যায়। 
  ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি দিক পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।
 ঘটনাস্থলে উপস্থিত এ সি পি ( ওয়েস্ট) শান্তব্রত চন্দ বলেন নিজের ঘরের মধ্যেই মৃত কিশোর শরণদীপের গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়া যায়। মৃতের মাথায় গুলি লেগে ছিল। মৃতের পিতাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জারী রয়েছে। শ্রীঘ্রই এই চাঞ্চল্যকর খুনের কিনারা করবার চেষ্টা চলছে। 

ঘটনাস্থলে সি আই হীরাপুর শিবনাথ পাল এবং অন্যান্য অফিসারদের তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে দেখা যায়।
এদিকে মৃতের পিতা ভূপীন্দর বলেন রাত প্রায় সাড়ে আট টা থেকে নটার মধ্যে পুত্রের সামোসা এবং সুজির হালুয়া খাবার ইচ্ছা অনুসারে গতকাল তিনি ঘরে পুত্র শরণদীপকে তালাবন্ধ করে রেখে চিত্রা মোড়ের দোকানে সুজি কিনতে বেরিয়েছিলেন। জিনিসপত্র কেনাকাটা করার পর যখন তিনি বাড়ি ফিরে এসে দরজা খোলেন তখন তিনি দেখেন শরণদীপ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারিদিক। ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র ওলটপালট হয়ে পড়ে আছে। সামনে গিয়ে দেখেন তার পুত্রের মাথায় গুলি লেগেছে। এরপরই তার চিৎকারে আশপাশের থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সূত্রের খবর অনুযায়ী  ভূপীন্দর তার পুত্রকে নিয়ে জেলা হাসপাতালে পৌঁছান এবং সেখানেই শরণদীপকে ডিউটিরত ডাক্তার মৃত বলে ঘোষনা করেন।
 ইতিমধ্যেই খবর পেয়ে হীরাপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 
  খবর পাওয়া যাচ্ছে ঘরের জানলা খোলা অবস্থায় ছিল যেখান থেকে আততায়ী শরণদীপকে নিশানা করেছিল। 
  পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতের কিছু আত্মীয়স্বজন হাঙ্গামা শুরু করে দেন। তাদের অভিযোগের তীর ছিল মৃতের বাবা ভূপীন্দর। এদিকে ভূপীন্দর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন , যে পুত্রই তার কাছে সবকিছু ছিল যে কারণে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন নি। আর এ কারণেই এলাকাবাসী ধন্দে রয়েছেন যে কি কারণে ১২ বছর বয়সী নিষ্পাপ এই কিশোরকে হত্যা করা হল। কিছু মানুষ এটাও বলছেন যে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন করে সংসার পাতার কথা চিন্তা করেই হয়ত এই কাজ করেছেন বা করিয়েছেন অভিযুক্ত। 
 রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে এবং পুলিশ জোরকদমে তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে দ্রুত সমাধানসূত্র খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যে।