ASANSOL

নানা ঘটনায় শিরোনামে আসানসোল দক্ষিণ বিধান সভা সকাল থেকে দাপিয়ে বেড়ালেন অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি প্রার্থীকে দেখে স্লোগান, ছোঁড়া হলো ইট, কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জ,পুলিশ অফিসারের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন সায়নী ঘোষ

বেঙ্গল মিরর, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত, আসানসোল, ২৬ এপ্রিলঃ সকাল থেকে কার্যত নিজের বিধান সভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়ালেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। আর নিজের হাতে ধরলেন একের পর এক ঘটনা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় বিকালে বার্ণপুরের রহমতনগরের নয়াবস্তি এলাকার একটি ঘটনা। এখানে একটি বুথ পরিদর্শনে আসেন বিজেপি প্রার্থী। গোটা এলাকাটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। গাড়ি থেকে বিজেপি প্রার্থী নেমে বুথের দিকে যাওয়া মাত্রই গোব্যাক স্লোগান শুরু হয়। বিজেপি তা শুনে দাঁড়িয়েও যান।

অভিযোগ এরপর তার গাড়ি লক্ষ্য করে এলাকার মানুষেরা ইট ছোঁড়ে। একটি ইট অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতেও লাগে। এরপর এলাকায় লাঠিচার্জ শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের সাহায্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকা থেকে বিজেপি প্রার্থীকে বার করে নিয়ে যায়।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জে এলাকার বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আর সবকিছুর জন্য দায়ী করলেন তৃনমুল কংগ্রেসকে। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তৃনমুল কংগ্রেস ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল সব ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও এই কেন্দ্রের তৃনমুল কংগ্রেসের তারকা প্রার্থী সায়নী ঘোষ এইসবকে পাত্তা দিতে চাননি।

সোমবার সকালে রানিগঞ্জের বক্তারনগরের একটি বুথে আসেন বিজেপি প্রার্থী। সেই বুথে তৃনমুল কংগ্রেসের বুথ এজেন্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহ টুপি পড়ে বসেছিলেন বলে অভিযোগ। তিনি বুথে ঢুকে সেই টুপি হাতে নিয়ে বাইরে চলে আসেন। পর আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করে বলেন, এটা তৃনমুল কংগ্রেসের একটা কৌশল। নির্বাচন কমিশনকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছি।


এরপর দুপুরে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল খবর পেয়ে রানিগঞ্জের জেকেনগরের ওল্ড মাইনস্ এলাকায় আসেন। সেখানে বুথ থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে তৃনমুল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে মাংস ভাত খাওয়ানো হচ্ছে বলে খবর পেয়ে সেখানে ঢুকে হাতেনাতে তা ধরে পেলেন।


যদিও এদিন বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১১ / ১২টি গাড়ির কনভয় নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ করে তৃনমুল কংগ্রেসের প্রার্থী সায়নী ঘোষ।


এদিন সকালে বার্ণপুরের সোনমতি ফ্রি প্রাইমারি স্কুলের ২০০ মিটারের মধ্যে দলের ক্যাম্পে বসেছিলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর বিনোদ যাদব সহ বেশ কয়েকজন তৃনমুল কংগ্রেসের কর্মী। সেই সময় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের সরে যেতে বলে। কিন্তু, তারা না সরায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের উপর লাঠিচার্জ করে। সেই খবর পেয়ে সেখানে তৃনমুল কংগ্রেসের প্রার্থী সায়নী ঘোষ আসেন। তখন সায়নী ঘোষের চোখে চোখ রেখে কথা বলে গেলেন এক পুলিশ অফিসার। কিন্তু তার সেই কথাবার্তার উত্তরে সায়নী ঘোষ বলেন, এখন কিছু বলার নেই। ২ মের পর সব উত্তর পেয়ে যাবেন।

আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী সায়নী ঘোষের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের কিছু অফিসার তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের অন্যায় ভাবে হয়রান করছেন। লাঠি চালাচ্ছেন তাদের উপরে। বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এক পুলিশ অফিসার সায়নিকে বলেন আগে আপনার লোকদের সরিয়ে দিন তার পরে কথা হবে। সায়নি বলেন বুথ অফিসে তৃণমূলের দুজন ব্যক্তি আছেন, তারা থাকবেন। তখন পুলিশ অফিসার বলেন এখানকার প্রাক্তন কাউন্সিলর সব জায়গায় “গ্যাদারিং” করছেন। তখন সায়নি বলেন বিজেপির লোকদের বলুন সরে যাওয়ার জন্য। এইসময় এক পুলিশ অফিসার সায়নীকে বলেন আপনি কে? সায়নী বলেন, আমি ক্যান্ডিডেট।

উত্তরে পুলিশ অফিসার বলেন, তো কি হয়েছে! এ সময় সায়নী তার নাম জিজ্ঞাসা করল ঐ অফিসার বলেন, লিখে নিন আমার নাম নিত্যানন্দ মণ্ডল, এস আই অফ রাজ্য পুলিশ। ঠিক আছে? এরপরই তিনি গজ গজ করতে করতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এই প্রসঙ্গে সায়নী বলেন পুলিশ তৃণমূলের সমর্থকদের উপরে “আনলফুলি” লাঠিচার্জ করছে। ওই পুলিশ অফিসার কেনা গোলামের মত আচরণ করছেন। তিনি বলেন, ঐ পুলিশ অফিসারে আমার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলার জন্য তিনি অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু তিনি রাগ দেখিয়ে কথা বলতে থাকেন। তাই তিনি বলেছেন এখন কিছু বলার নেই দুই মে’র পর সব উত্তর ওই পুলিশ অফিসার পেয়ে যাবেন।

পুলিশ অফিসারের অভিযোগ ছিল তৃণমূলের লোকেরা বুথ জ্যাম করছেন। এ প্রসঙ্গে সায়নী বলেন স্থানীয় ভোটাররা এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেননি। কারণ বুথ জ্যাম হয়নি, তবুও ওই পুলিশ অফিসার অন্যায় ভাবে তার সমর্থকদের মারধর করেছে। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট চাপানউতোর চলতে থাকে।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hey there! Ask me anything!