বার্ণপুরের ঘটনা, শব দাহ করতে আসা শ্মশান যাত্রীদের মানবিক মুখ, অসুস্থ হয়ে পড়া শেয়ালের বাচ্চাকে উদ্ধার করলো বন দপ্তর

দেব ভট্টাচার্য ও রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ২৯ নভেম্বরঃ শ্মশানে শব দাহ করতে আসা শ্মশান যাত্রীদের মানবিক মুখ। বলা ভালো, ঐ শ্মশান যাত্রীদের তৎপরতার প্রাণে বেঁচে গেলো একটা শেয়ালের বাচ্চা। রবিবার রাতে আসানসোলের হিরাপুর থানার বার্ণপুরের দামোদর নদী লাগোয়া কালাঝড়িয়া শ্মশানে এই ঘটনাটি ঘটেছে। শ্মশান যাত্রীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাতেই শ্মশান থেকে ঐ শেয়ালের বাচ্চাকে উদ্ধার করেন বন দপ্তরের আসানসোল টেরিটোরিয়্যাল রেঞ্জের কর্মীরা।

শেয়ালের বাচ্চাকে উদ্ধার


বন দপ্তর সূত্রে সোমবার জানা গেছে, রাতেই ঐ শেয়ালের বাচ্চাকে পশু চিকিৎসক পরীক্ষা করেন। এক বা দুদিনের ঐ বাচ্চার শারীরিক অবস্থা ঠিক আছে। ঠান্ডা লেগে যাওয়াতে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। আপাততঃ একটি খাঁচায় বাচ্চাটিকে রেখে দুধ ও বিস্কুট খেতে দেওয়া হচ্ছে। আরো কয়েক দিন বন দপ্তরের কর্মীরা বাচ্চাটিকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন। তারপর তাকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।


জানা গেছে, রবিবার রাত আটটা নাগাদ বেশ কয়েকজন মানুষ বার্ণপুরের কালাঝড়িয়া শ্মশাঘাটে শব দাহ করতে আসেন। সেই সময় তারা দামোদর নদীর পাড়ে একটা শব্দ শুনতে পান। সেই শব্দে তাদের মনে হয়, সেটা কোন কুকুর বাচ্চার। তারা কাছে গিয়ে দেখেন, কুকুর নয়, একটা শেয়ালের বাচ্চা শুয়ে রয়েছে। সেই আওয়াজ করছে। দূরে তারা লক্ষ্য করে দেখেন, একটা শেয়াল কয়েকটা বাচ্চা নিয়ে দামোদর নদীর দিকে যাচ্ছে। শ্মশান যাত্রীরা বুঝতে পারেন, মা শেয়াল এই বাচ্চাটাকে ফেলে চলে গেছে।


শ্মশান যাত্রীদের মধ্যে থাকা এক ব্যক্তি ফোনে বন দপ্তরের আসানসোল টেরিটোরিয়্যাল রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার অচিন্ত্য সরকারকে গোটা বিষয়টি জানান। অচিন্ত্যবাবু তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা বাচ্চাটিকে দেখুন। আমি কর্মীদের পাঠাচ্ছি। শ্মশান যাত্রীরা এরপর শেয়ালের বাচ্চাটিকে গর্ত থেকে বার করে আগুনের পাশে রাখেন। যাতে তার ঠান্ডা লেগে না যায়। ৪৫ মিনিটের মধ্যেই কালাঝড়িয়া শ্মশানে পৌঁছে যায় বন দপ্তরের কর্মীরা। তারা খাঁচায় করে শেয়ালের বাচ্চাটিকে নিয়ে আসেন।
বন দপ্তর শ্মশান যাত্রীদের এমন একটা কাজের জন্য ধন্যবাদ জানায়। বন দপ্তরের আধিকারিক বলেন, শ্মশান যাত্রীরা না খেয়াল করলে, বাচ্চাটা ঠান্ডায় মরে যেতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *