ASANSOLHealth

প্রতি ১০০ জন স্কুল পড়ুয়ার মধ্যে অন্তত তিনজন অ্যাজমার শিকার

বেঙ্গল মিরর, দেব ভট্টাচার্য। আসানসোল: ভারতবর্ষে এই মুহূর্তে প্রতি ১০০ জন স্কুল পড়ুয়ার মধ্যে অন্তত তিনজন অ্যাজমার শিকার ।বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্কুলে কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর হঠাৎ করে আ্যকিউট অ্যাজমা আ্যটাকের শিকার হওয়ার ঘটনা যা কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী রূপ ও ধারণ করেছে। অ্যাজমার সঠিক এবং সুষ্ঠু চিকিৎসা যেরকম প্রয়োজন, ঠিক সে রকমই প্রয়োজন ছাত্র-ছাত্রীরা দিনের একটা বড় অংশ যেখানে কাটায়, সেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারীদের অ্যাজমা সম্পর্কে সঠিক সচেতনতার। শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিভাবকদের মধ্যে অ্যাজমা নিয়ে সঠিক ধারণা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং বিশেষ করে হঠাৎ করে কোন ছাত্রের যদি আ্যকিউট অ্যাজমা অ্যাটাক হয় সে ক্ষেত্রে কি করনীয় তার সম্পর্কে একটা সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে এলেন শিশু চিকিৎসকেরা।

চাইল্ডহুড অ্যাজমা সম্পর্কিত সর্বভারতীয় আলোচনাসভা অ্যাজমাকন থেকে এদিন সল্টলেকের ভারতীয় বিদ্যা ভবনে অনুষ্ঠিত হলো একটি সচেতনতা শিবির। এই অনুষ্ঠানটির নাম ছিল এস্কেপ যেটা ভাঙলে দাঁড়ায় ‌ Empowering Schools to Control Asthma Allergies & Prevent Emergencies। শহরের কিছু প্রথিত যশা শিশু চিকিৎসক এবং জাতীয় স্তরে শ্বাসরোগের চিকিৎসায় পরিবেশের ভূমিকা নিয়ে কাজ করা প্রখ্যাত ডঃ এইচ পরমেশ এই সচেতনতা শিবিরে অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেকে বক্তা অ্যাজমার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সঠিক ধারণা এবং হঠাৎ করে স্কুলের কোন ছাত্রের বা ছাত্রীর অ্যাটাক হলে কি করনীয় তাই নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবহার হাতে-কলমে শেখান। শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের মধ্যে এই ধরনের সচেতনতা শিবির প্রবল সারা ফেলেছে বলা যায়।

এ ব্যাপারে ভারতীয় বিদ্যাভবনের প্রধান শিক্ষক বলেন…… অ্যাজমাকনের আয়োজকদের তরফে ডক্টর অতনু ভদ্রের কথায়….অনুষ্ঠানটির অন্যতম প্রশিক্ষক শিশু চিকিৎসক ড শমীক হাজরা বলেন “আ্যজমা একটি অত্যন্ত জরুরি সমস্যা। বিশেষ করে শিশু কিশোর এবং বয়ঃসন্ধি র সম্মুখীন ছেলেমেয়েদের অনেকেই আ্যজমার শিকার। আমাদের চারপাশে যে হারে দূষণ বাড়ছে তাতে আগামী দিনে অ্যাজমার প্রকোপ হয়তো আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কা থেকে যায়। রোগটির চিকিৎসার মূলমন্ত্র হলো বাড়াবাড়ি আটকানো তথা শ্বাসনালীর প্রদাহকে কমিয়ে রাখা।

যেহেতু অ্যাজমা রোগী শিশু-কিশোরদের যেকোনো সময় একটা আ্যকিউট অ্যাটাক হতে পারে, তাই যত দ্রুত এই আ্যকিউট আ্যটাককে বোঝা যায় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা যায় ততই বিপদের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা অশিক্ষক কর্মচারীদের অ্যাজমা সংক্রান্ত প্রাথমিক পাঠ এবং অবশ্য পালনীয় কর্তব্যসমূহ শেখা অত্যন্ত জরুরী। আজকের সচেতনতা শিবিরে অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে শিক্ষকরা অভিভাবক সেই প্রাথমিক ধারণা গ্রহণ করলেন।এই ধরনের অনুষ্ঠান আমরা আরো পরিকল্পনা করছি। আমাদের লক্ষ্য প্রত্যেকটা শিশুর সুস্থভাবে শ্বাস নেওয়ার অধিকার বজায় রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *