RANIGANJ-JAMURIA

রানীগঞ্জের প্রদীপের সাইকেলে করে চার জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন

বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ :   নিজের স্বপ্ন কে বাস্তবায়িত করে, বিয়াল্লিশ দিনের মাথায় চার জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করে সফর সারলো রানীগঞ্জের প্রদীপ। বাড়িতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবার কাছে আশীর্বাদ নিয়ে মায়ের স্নেহ ভালবাসাকে পাথেয় করে ২৩ শে এপ্রিল কেদারনাথ যাত্রার উদ্দেশ্যে সাইকেলে করে পাড়ি দেয় বি. এ. প্রথম বর্ষের ছাত্র রানীগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বছর ১৮র প্রদীপ।

এক সময় চার জ্যোতির্লিঙ্গ যাবার অদম্য ইচ্ছে তার মধ্যে জেগে ওঠে। সেই ইচ্ছের ওপর ভর করেই একটা একটা করে সঞ্চিত টাকা জমিয়ে নতুন সাইকেল খরিদ করে ১৮ বছর বয়স হওয়ার পরেই সে কেদারনাথ যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়, এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখে। সে সময় বন্ধুরা তাকে কেদারনাথ যাওয়ার জন্য যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা সরে যাওয়ার কথা জানানোর পরই, সে নির্দিষ্ট সময়ে কেদারনাথ দর্শনের দরজা খোলার পরেই সেখানে কেদারনাথ দর্শন করার সুযোগ পায়।

রাস্তায় বিভিন্ন ধর্মশালায় , মন্দিরে, পেট্রোল পাম্প সহ নানান স্থানে রাত্রি বাস করে, চলতে থাকে তার সাইকেলে করে ৪ জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের জন্য নিয়ে পিট ব্যাগ নিয়ে সফর। যদিও এর মাঝে একবার সে উত্তরপ্রদেশে অসুস্থ হয়ে গেলেও রাস্তায় তাকে, সেখানের মানুষজন সুস্থ করে তুলে, আবার তার যাত্রাপথে যাওয়ার জন্য চাঙ্গা করে তোলে। এরপর টানা সাইকেলে করে, পাহাড়, পর্বত ডিঙিয়ে, চলে তার সফর। যেখানে চড়াই থাকে, সেখানে পায়ে হেঁটে সাইকেল সঙ্গে নিয়ে চলতে থাকে সে।

শেষমেষ নির্দিষ্ট সময়ে কেদারনাথ দর্শন করে। আর তার সাথেই, আরও জ্যোতির্লিঙ্গ গুলি দর্শন করে এবার ৪২ দিনের মাথায় খনি অঞ্চল রানীগঞ্জে এসে পৌছলে, তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় খনি অঞ্চলের মোটর বাইক প্রেমী সংস্থা, বাইক রাইডার গ্রুপ, যা আর গ্রুপ নামেই পরিচিত, সেই গ্রুপের সদস্যরা। তারা তাকে মিষ্টিমুখ করিয়ে, ফুলের তোড়া দিয়ে, ফুলের মালা গলায় দিয়ে সম্বর্ধনা জানায়। নিজের পরিচিত সব মুখগুলি আবারো চোখের সামনে লক্ষ্য করে আবেগে উচ্ছাসিত হয়ে ওঠে সে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা ও যাত্রা কিরূপ হল সে সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জানান দেয় প্রদীপ।

প্রদীপের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত আর গ্রুপের সদস্যরা, তারা এই সাইকেলে সফরকে সাধুবাদ জানিয়েছে, এরূপভাবে কঠিন পরিশ্রম ও  অধ্যাবসায় যে কঠিন থেকে কঠিনতর কাজ কেউ সহজ করে দিতে পারে, তা প্রদীপের এই সাইকেল যাত্রায় প্রমাণ করলো বলেই দাবি করে তারা। সেখানে এদিন রানীগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকাতে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রদীপ কে তার বন্ধুবান্ধব ও এলাকার মানুষজন, এই সফল সাইকেল যাত্রা দেখে আবেগে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। এদিন চার ধাম ভ্রমণ করা প্রদীপকে, বাদ্যযন্ত্র সহযোগে বরণ করে সকলে। বাবা, মা তার এই সফর সফল করে ফেরা দেখে, আনন্দে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

Leave a Reply