আসানসোল বইমেলার উদ্বোধন, চলবে ১০ দিন
যুব শিল্পী সংসদের ৪২ তম আয়োজন
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডে যুব শিল্পী সংসদের তরফে আসানসোল বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই বছরের আসানসোল বইমেলা ৪২ বছরে পড়লো। শুক্রবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রথমে আসানসোল বইমেলার উদ্বোধন করেন সাহিত্যিক জয়া মিত্র। ছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক এস পোন্নাবলম, আসানসোল পুরনিগমের চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়, বাসুদেব মন্ডল, সম্পাদক সৌমেন দাস, শচীন রায়, ডাঃ দেবাশীষ বন্দোপাধ্যায়, বিকাশ গায়েন পার্থপ্রতীম আচার্য্য, সোমনাথ গরাই সহ অন্যান্যরা। এরপরে যুব শিল্পী সংসদের পতাকা উত্তোলন করেন সৌমেন দাস। বইমেলার পতাকা উত্তোলন করেন জেলাশাসক এস পোন্নাবলম। এই বছরের বইমেলার স্মারক পত্রিকার উন্মোচন করেন পুর চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়। ১০ দিনের এই বইমেলা ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।














জেলাশাসক এস পোন্নাবলম বলেন, আসানসোল এমন একটা শহর যেখানে একমাসের মধ্যে দুটি বইমেলা হয়। তার মধ্যে একটা সরকারি বইমেলা। আর এটা একটা। দুটোই খুবই ভাবে হয়। তিনি আরো বলেন, আজ জেলাশাসক হিসেবে এসেছি। এরপরে বইপ্রেমী হিসেবে আসবো। সবাই আসুন এই বইমেলায়। মনে রাখতে হবে, সমাজ যতই আধুনিক হোক না কেন বই সবসময় মানুষের সঙ্গী।
সাহিত্যিক জয়া মিত্র বলেন, ৪২ বছর ধরে যুব শিল্পী সংসদ আসানসোল বইমেলা আয়োজন করে আসছে। আগামী দিনে এই বইমেলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গেলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সৌমেন দাস বলেন, ১০ জানুয়ারি দুপুর থেকে বইমেলা মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু হবে। ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বইমেলা শেষ হবে। বইমেলায় ১৬ জানুয়ারি একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়ারা অংশ নিতে পারবেন। ১৮ জানুয়ারি অর্থাৎ বইমেলার শেষ দিন দুপুরে বসে আঁকো ও আলপনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বসে আঁকো প্রতিযোগিতা দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে । তিনি আরো বলেন, গত বছর বইমেলার বাইরের রাস্তায় আলপনা আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিলো। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা অনেক বেশি, তাই বইমেলা মাঠে সেই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ জানুয়ারি দুপুরে হবে কবি সম্মেলন। ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা একটি সঙ্গীতনুষ্ঠানে সাগ্নিক সেন উপস্থিত থাকবেন। ১৮ জানুয়ারির সঙ্গীতানুষ্ঠানে থাকছেন দীপ চ্যাটার্জি সঙ্গে মাতান।
এই বছর ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬:৩০ টায় প্রথমবারের মতো একটি নতুন অনুষ্ঠান করা হবে। ” গল্প শুনুন” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী অথবা জাতির জন্য গৌরব বয়ে আনা মহান ব্যক্তিদের গল্প বলা হবে। তা এমনভাবে করা হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত ও অনুপ্রাণিত করবে। প্রায় ৩০০ জন শিল্পী পুরো বইমেলায় নানা অনুষ্ঠান পরিবেশনা করবেন। যাদের বেশিরভাগই আসানসোল বা আশেপাশের এলাকার। এবারের বইমেলায় ৫০ টি স্টল রয়েছে। বইমেলায় বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার বইয়ের স্টল থাকবে। উর্দু ভাষার স্টল সম্পর্কে তিনি বলেন যে অনেক চেষ্টা করার পরেও তা আমরা করতে পারিনি। কেউ করতে এগিয়ে আসেনি। এবার প্রথম বাগবাজার রামকৃষ্ণ মিশনের বিশেষ স্টল থাকছে। ইসকনের স্টলও করেছে। লিটল ম্যাগাজিনের জন্য ২৬টি টেবিল রয়েছে। অনেক লেখক আছেন যারা নিজেদের বই উদ্বোধনের জন্য আসানসোল বইমেলার অপেক্ষায় থাকেন। সেই সুযোগ এই বছরেও থাকছে। এরসাথে থাকছে ১৪টি খাবারের স্টলও।


