প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের ১৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন, আসানসোলে দুদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* আসানসোলের জনগণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি আসানসোলের শ্রীপল্লীতে মুখার্জি হাউসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে বিশিষ্ট শিল্পপতি মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায় আসানসোলের পুলিশ লাইন সংলগ্ন বার্নপুর রোডের একটি হোটেলে মহাদেব মুখোপাধ্যায় জন কল্যাণ সমিতির তরফে এক সাংবাদিক সম্মেলন এই প্রসঙ্গে অবহিত করেন । তিনি বলেন , ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে নটায় প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্যে দিয়ে দুদিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হবে।















। এরপরে মুখার্জি হাউসে সকাল দশটা থেকে রক্তদান এবং চক্ষু পরীক্ষা শিবির হবে। একই সাথে, সকাল এগারোটার সময় প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের উপর একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। যেখানে প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে বিশিষ্টজনেরা আলোকপাত করবেন। ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বিকেল হবে অঙ্কন প্রতিযোগিতা। পরে সঙ্গীত প্রতিযোগিতা হবে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল গীত এবং আধুনিক বাংলা গান দিয়ে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে একটি নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে বিভিন্ন বিভাগের অংশগ্রহণকারীরা নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। তিনি আরো বলেন, পরের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে একটি কবি সম্মেলন হবে। সন্ধ্যা ৬টায় হবে একটি লোকগীতির অনুষ্ঠান। সেদিন রাতে একটি অনুষ্ঠানে আসানসোল সেরা সম্মান ও পুরস্কার দেওয়া হবে।
সেই অনুষ্ঠানে আসানসোলের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে তাদের আজীবন কাজের জন্য সম্মানিত করা হবে। তারা হলেন, মুক্তি রায়চৌধুরী, গিয়াসউদ্দিন দালাল, নুপুর কাজি, দ্বীপ নারায়ণ নায়েক, প্রবীর ধর, সনৎ বক্সি, সমীপ্রেন্দ্র লাহিড়ী, স্বরাজ দত্ত, সঞ্জীবন বন্দোপাধ্যায়, পাপিয়া মিত্র, মৌসুমি চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত রায় ও বীণা পাল। মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমার বাবা প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায় একজন নকশালপন্থী নেতা ছিলেন। তিনি সর্বদা সমাজে শোষণ বন্ধ করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছিলেন। সেই কারণেই তিনি এমন একটি সমাজ গঠনে তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন যেখানে কেউ কাউকে শোষণ করতে পারবে না। আমি তার সেই চেষ্টাকে বাস্তবায়িত করার জন্য এই ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। ২২ এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার একটা চেষ্টা মাত্র। আমি আসানসোলের সাধারণ মানুষকে দুদিনের এই কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিমাদ্রি মুখোপাধ্যায় ও নীলোৎপল রায়চৌধুরী।


