KULTI-BARAKAR

গঙ্গোত্রীতে হয়েছে, এবার গঙ্গাসাগরে সরকার হবে, কুলটিতে বিজেপির কার্যকর্তা সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য

বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দীর্ঘদিনের আমাদের স্বপ্ন শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদের সরকার। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগরে হবে বিজেপি সরকার। গঙ্গোত্রীতে সরকার হয়েছে। এবার গঙ্গাসাগরে এবার সরকার হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। সামনের বছর আপনারা যখন যাবেন, সেই ব্রিজের ওপর দিয়ে যাবেন। আমরা তা করে দেবো। ওনারা যে স্বপ্ন দেখছেন, আমরা তা পূরণ করে দেবো। বৃহস্পতিবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটি কলেজ মোড়ে ম্যারেজ হল চত্বরে দলের কার্যকর্তা সম্মেলনে সরকার তৈরির ব্যাপারে এমনই আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেলো বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের গলায়। এখনো বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়নি। তবে সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

এদিন কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রের এই কার্যকর্তা সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণ নেতা সুদীপ চৌধুরী এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) থেকে বুদ্ধদেব দত্ত সহ শতাধিক যুবক বিজেপিতে যোগদান করেন। এই সম্মেলনে বিজেপির রাজ্য নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য ও কুলটির বিধায়ক ডঃ অজয় পোদ্দার সহ অন্যদের উপস্থিতিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাদের হাতে দলের পতাকা তুলে দেন। সম্মেলনে উপস্থিত দলের নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, বাংলার মানুষ বিশেষ করে যুবসমাজ, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন ব্যবস্থায় তিতিবিরক্ত। সেই কারণেই তারা ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিচ্ছে। তিনি রাজ্য সরকার ও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, এমন কোন ইস্যু নেই, যেখানে তাদের দূর্নীতি নেই। আজকের লড়াই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির লড়াই বলে যারা ভাবছেন, তারা ভুল করছেন। ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে লড়তে হবে পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে ও প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে। এই সরকারটা প্রতারণা করেছে, বিশ্বাসঘাতকতা করেছে মানুষের সঙ্গে। মানুষ জানতেন কলকাতা লন্ডন হবে না, দীঘা গোয়া হবে না, দার্জিলিং সুইজারল্যান্ড হবে না। তাও মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। ইস্যু ছিলো একটাই, ” গনতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা আসার পরে মানুষের জীবনের প্রত্যেকটা পদক্ষেপে দূর্নীতিকে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, একটা অদ্ভুত পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়ে কত নাটক হলো দেখলেন। ফর্ম ৭ কেড়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। পুলিশ বাজেয়াপ্ত করলো। যে পুলিশ ও বিডিওরা এই কাজ করছেন, তারা ভুলে যাবেন না, আপনাদের বাড়ির ঠিকানা আছে। আপনাদেরও নাম আছে। আপনাদেরও কিছুদিন চাকরি করতে হবে, এই বিজেপি সরকারে চাকরি করতে হবে। ডাবল ইঞ্জিনে সরকারে চাকরি করতে হবে। তাই বেলা শেষে বাড়াবাড়িটা কমান। আর বাড়াবাড়ি করবেন না। মানুষকে একটা সুস্থ ভোটার তালিকা উপহার দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের ।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগদানকারী সুদীপ চৌধুরী বলেন, আমি তৃণমূল কংগ্রেসে পদে ছিলাম ও অনেক দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু যখন অনুভব করলাম যে তৃণমূল কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে সন্তুষ্ট করার জন্য রাজনীতি করছে। আজ বাংলা এবং বাংলায় বসবাসকারী জাতীয়তাবাদী মানুষেরা অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিলাম। বুদ্ধদেব দত্ত বলেন, আমি সিপিএমে থেকে সাংগঠনিক কাজ করেছি। কিন্তু এখন তৃণমূল কংগ্রেস শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে খুশি করার জন্য কাজ করছে ও মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে কাজ করছে। তাই আমি এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছি।তবে, দলের যুব নেতার দলবদল নিয়ে ভোটের আগে বিচলিত নয় কুলটি বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে বাদল পুইতুন্ডি বলেন, ঐ নেতার দলবদলে কি ক্ষতি হবে, তা তো সময় বলবে। গোটা বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hey there! Ask me anything!