জনগণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের ১৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন, আসানসোলে দুদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের জনগণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে রবিবার থেকে আসানসোলের শ্রীপল্লীতে মুখার্জি হাউসে দুদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুদিনের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহাদেব মুখোপাধ্যায় জনকল্যাণ সমিতি।এদিন সকালে প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্যে দিয়ে দুদিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শ্রদ্ধা জানান প্রয়াত নেতার ছেলে মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, পুত্রবধূ তূষারিকা মুখোপাধ্যায়, হিমাদ্রি মুখোপাধ্যায়, নীলাদ্রি মুখোপাধ্যায়, প্রবীর ধর, পরিবারের সদস্য সহ অন্যান্যরা। এরপরে মুখার্জি হাউসে সকাল দশটা থেকে রক্তদান এবং চক্ষু পরীক্ষা শিবির হয়। রক্তদান শিবিরে ২২ জন রক্ত দান করেন। এরপরে হয় প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও তার কাজ নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভা।














যেখানে প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে বিশিষ্টজনেরা আলোকপাত করেন। এদিন দুপুরে হয় আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। পরে বিকেলে আয়োজন করা হয়েছিলো অঙ্কন প্রতিযোগিতা। এরপরে হয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় নৃত্য প্রতিযোগিতা।এই প্রসঙ্গে মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, অনুষ্ঠানের শেষদিন সোমবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে হবে কবি সম্মেলন । সন্ধ্যায় হবে একটি লোকগীতির অনুষ্ঠান। তার আগে বিকেলে একটি অনুষ্ঠানে আসানসোল সেরা সম্মান ও পুরস্কার দেওয়া হবে। সেই অনুষ্ঠানে আসানসোলের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে তাদের আজীবন কাজের জন্য সম্মানিত করা হবে। তারা হলেন, মুক্তি রায়চৌধুরী, গিয়াসউদ্দিন দালাল, নুপুর কাজি, দ্বীপ নারায়ণ নায়েক, প্রবীর ধর, সনৎ বক্সি, সমীপ্রেন্দ্র লাহিড়ী, স্বরাজ দত্ত, সঞ্জীবন বন্দোপাধ্যায়, পাপিয়া মিত্র, মৌসুমি চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত রায় ও বীণা পাল।
মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমার বাবা প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায় একজন নকশালপন্থী নেতা ছিলেন। তিনি সর্বদা সমাজে শোষণ বন্ধ করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছিলেন। সেই কারণেই তিনি এমন একটি সমাজ গঠনে তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন যেখানে কেউ কাউকে শোষণ করতে পারবে না। আমি তার সেই চেষ্টাকে বাস্তবায়িত করার জন্য এই ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। দুদিনের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়াত মহাদেব মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার একটা চেষ্টা মাত্র বলে তিনি জানান।


