ASANSOL

বরাকরে বাড়ি জলের ট্যাঙ্ক থেকে শিশুর দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ ধৃত মামী ও দিদিমার ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত

বেঙ্গল মিরর, বরাকর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে প্রায় সাত মাসের এক শিশুর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিলো। শিশুকে জলে ডুবিয়ে খুন করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় তার মামী ও দিদিমাকে। ধৃতদের নাম হলো সানিয়া পরভীন ও গুলশন আরা। শুক্রবার ধৃতদেরকে আসানসোল জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশ ঘটনার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।


বৃহস্পতিবার শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল পুরনিগমের ৬৬ নং ওয়ার্ডের কুলটি থানার বরাকরের বালতোড়িয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে সাত মাসের ঐ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিলো। এই ঘটনার পরে শিশুর মা-বাবার তরফে মামী সানিয়া প্রবীন বা পরভীন, দিদিমা গুলশান আরা ও দাদু ইসমাইল আনসারি বিরুদ্ধে তাকে ডুবিয়ে খুন করার অভিযোগ করা হয়েছিলো। বৃহস্পতিবার বিকেলে আসানসোল জেলা হাসপাতালে শিশুর মৃতদেহর ময়নাতদন্ত করা হয়েছিলো। এর পাশাপাশি এই তিনজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছিলো।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুলটির বরাকরের বালতোড়িয়ার ইসমাইল আনসারি তার স্ত্রী গুলশান আরা, ছেলে শাহনওয়াজ আনসারির স্ত্রী সানিয়া প্রবীণ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে থাকেন। শাহনওয়াজ বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। সানিয়ার একটি দশ মাস বয়সী মেয়েও রয়েছে। ইসমাইল আনসারির মেয়ে মুসকান খাতুন বালতোড়িয়ার বাসিন্দা মুস্তাফা আনসারির সাথে বিয়ে হয়েছে। মুস্তাফা পেশায় একজন গাড়িচালক। কাজের জন্য বিহারের জামুইতে গেছেন। সেই কারণে মুসকান তার সাত মাসের ছেলেকে নিয়ে বাবা-মায়ের বাড়িতেই ছিলেন।
প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, দাদু ও দিদিমা তাদের নাতিকে অতিরিক্ত স্নেহ করতেন। বাড়িতে তাদের ছেলের ১০ মাসের ছেলে আছে। তা সত্বেও তারা ননদের ছেলেকে বেশি স্নেহ ও ভালোবাসার বিষয়টা সানিয়া প্রবীণ ভালোভাবে নিতোনা। যা নিয়ে পরিবারে অশান্তিও হতো। তাদের দাবি, সানিয়া সেই কারণে বৃহস্পতিবার ভোরবেলা শিশুটিকে ঘুম থেকে তুলে জলের ট্যাঙ্কে ডুবিয়ে মেরে ফেলতে পারে।


পরিবারের সদস্যদের মতে, ভোরবেলা ইসমাইল আনসারি যখন রোজা এবং নামাজের প্রস্তুতি নিতে জলের ট্যাঙ্কের যান, তখন তিনি শিশুটিকে ডুবে থাকতে দেখেন। আতঙ্কিত ইসমাইল তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে বার করে এনে মুসকানকে খবর দেন। ছেলের এই অবস্থা দেখে মা মুসকান অজ্ঞান হয়ে পড়েন ও কাঁদতে কাঁদতে সানিয়ার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনেন।

ঘটনার খবর পেয়ে বরাকর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ শিশুর মৃতদেহটি আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। একইসাথে, পুলিশ সানিয়া প্রবীণ, ইসমাইল আনসারি এবং গুলশান আরাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের এক আধিকারিক শুক্রবার বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ভিত্তিতে সানিয়া প্রবীন ও গুলশন আরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইসমাইল আনসারিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ধৃত দুজনকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। এদিকে, এই ঘটনায় এলাকায় একইসাথে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র স্নেহ করা কিভাবে একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে তা নিয়ে এলাকার বাসিন্দা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা রীতিমতো হতবাক।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Hey there! Ask me anything!