আসানসোল উত্তর বিধানসভা , জ্যোতিষ শাস্ত্রে ভরসা, শুভক্ষণ দেখে প্রথম দিনেই মনোনয়ন জমা বিজেপি প্রার্থীর
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম দফা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার প্রথম দিন ছিলো সোমবার। প্রথম দফায় নির্বাচন হবে পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয়টি বিধানসভায়।জ্যোতিষে ভরসা। সনাতনী হিন্দু মত ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে শুভক্ষণ দেখে এদিন দুপুরে আসানসোল উত্তর বিধানসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় তার মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন আসানসোলে মহকুমাশাসকের ( সদর) কার্যালয়ে। যদিও, আগামী ১ এপ্রিল পশ্চিম বর্ধমান জেলায় পদ্ম প্রার্থীদের একসঙ্গে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে দলীয় নেতৃত্বর তরফে। কিন্তু, ব্যতিক্রমী ভাবেই, দলের উচ্চ নেতৃত্বর অনুমতি নিয়ে এদিন দুপুর দুটোর পরে বিজেপি প্রার্থী মহকুমাশাসক (সদর) তথা আসানসোল উত্তর বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার বা আরও অঘোর রায়ের হাতে মনোনয়ন পত্র তুলে দেন। মনোনয়ন পত্র জমা দিতে আসা বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে কোন কর্মী বা সমর্থক ছিলেননা। হয়নি কোন মিছিল। ছিলোনা স্লোগানও। তিনি দুপুর দেড়টা নাগাদ বার্নপুর রোডের অফিসে থেকে আসানসোল আদালত চত্বরে মহকুমাশাসকের (সদর) কার্যালয়ে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন নির্বাচনী এজেন্ট দিলীপ দে, সবমিলিয়ে চারজন দলের কর্মী প্রস্তাবক ও দুজন নিরাপত্তা কর্মী ।














মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি সনাতন ঐতিহ্যে বিশ্বাসী। জ্যোতিষে ভরসা করি। তাই ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে এই দিনটিকে শুভ মনে করে মনোনয়ন জমা করেছি। তিনি বলেন, দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছিলো, এদিন কোন মিছিল না করতে। তাই আমি তা করিনি।তিনি আরো বলেন, আগামী ১ এপ্রিল আসানসোলের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার জন্য একটা মিছিল করা হবে। আমি ইতিমধ্যেই আমার কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রচার শুরু করেছি। এবার আমার নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্র সরকার উন্নয়নমূলক বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ত্রুটি এবং দুর্নীতির বিষয়গুলিও তুলে ধরছি। কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী প্রচারে নারী সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরছেন। তিনি আরো বলেন, কোথাও কোন আতঙ্কের পরিবেশ নেই। বিজেপির নেতা ও কর্মীরা আতঙ্কিত নন। ভোটাররা এবার তাদের গনতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এতোদিন যা, তারা করতে পারেননি। এসআইআর এবারের নির্বাচনে অনেকটাই প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বলে দাবি তার। বিজেপি প্রার্থী আশাবাদী যে, এবার বাংলায় তাদের সরকার হবে।
এদিকে, মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার জন্য আসানসোলের মহকুমাশাসক (সদর) কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাটো করা হয়েছে। মহকুমাশাসক কার্যালয়ে যাওয়ার সমস্ত রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ড্রপ গেট। যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় অর্থাৎ সকাল এগারোটা থেকে দুপুর তিনটে পর্যন্ত মহকুমাশাসকের মুল কার্যালয়ে খুব প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি, প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার ছবি তুলতে ও খবর সংগ্রহ করতে চিত্র সাংবাদিক ও সাংবাদিকদোর বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে কর্মরত পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সাংবাদিকদের দীর্ঘক্ষন বাকবিতন্ডা হয়। শেষ পর্যন্ত মহকুমাশাসকের হস্তক্ষেপে সাংবাদিকরা ভেতরে যান।

