বারাবনি সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার আহ্বান অভিষেকের
বেঙ্গল মিরর, বারাবনি, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* একদিকে বিজেপিকে আক্রমণ করে পদ্মফুলে ভোট দেওয়া নিয়ে ভোটারদের করলেন সতর্ক। অন্যদিকে, বারাবনির প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়কে চতুর্থবার জেতানো ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার আহবান শনিবার দুপুরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার বারাবনি বিধানসভার পানুরিয়া হাসপাতাল গ্রাউন্ডের জনসভা থেকে করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ডার অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। একইসাথে, এদিনের সভায় গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও বারাবনির জন্য কি কি উন্নয়ন মুলক কাজ করেছে তারও একটা পরিসংখ্যান অভিষেক বন্দোপাধ্যায় তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তার বক্তব্যে উঠে আসে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ১২ বছরে বাংলাকে বঞ্চনা করার দিকটিও।এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ পানুরিয়া হাসপাতাল গ্রাউন্ডে তৈরি হওয়া অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামে অভিষেকের হেলিকপ্টার। তাকে স্বাগত জানিয়ে সভা মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে আসেন জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, প্রদীপ মজুমদার, মলয় ঘটক, বিধান উপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা। এছাড়াও ছিলেন রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু ও কবি দত্ত।














সভায় অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আরো বলেন, এখানকার প্রার্থী বিধান উপাধ্যায় সম্পর্কে আলাদা করে পরিচিতির দরকার নেই। ২০২১ সালে ২৩ হাজার ভোটে এখানে জিতেছেন। এবার এমন ভোট দিতে হবে আগামী ১০০ বছরেও যেন এখান থেকে বিজেপি প্রার্থী খুঁজে না পায়। ৪০ হাজারের বেশি ভোটে জিততে হবে। এই বিধানসভার বিজেপির প্রার্থী অভিজিৎ রায়ের কুকীর্তি সবাই জানে। ঠিক এক মাসে ৫ মার্চ দলের রথ যাত্রা থেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের উপরে হামলা করেছিলো সে। দলের পার্টি অফিসে পিটিয়েছে নিজের দলের তিন নেতাকে। যা নিয়ে তার নামে পুলিশের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অরিজিৎকে ভোট দেওয়া মানে দুষ্কৃতিরাজ কায়েম করা। জেলা বিজেপি অফিস এখন কয়লা মাফিয়াদের দখলে।তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আক্রমণ করে বলেন, বিজেপি মানে ঘুষখোড়, মাতাল, পাতাখোড় ও দুর্নীতিবাজ।
তৃণমূল ক্ষমতায় এসে বর্ধমান জেলাকে ভাগ করে আলাদা পশ্চিম বর্ধমান জেলা করেছে। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা হাসপাতাল মাল্টি সুপার হাসপাতাল, পুলিশ কমিশনারেট গঠন হয়েছে তৃণমূল আসার পরে। ২০২৩ সাল থেকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। বিনামূল্যে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য সিক নিউনেটাল ইউনিট আছে এখানে। বিজেপির ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড আর আমাদের ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড দেখুন। নিজেরাই বুঝতে পারবেন। তিনি বলেন, এই বারাবনির আমূল সংস্কার করা হয়েছে । বারাবনিতে লক্ষী ভাণ্ডার ৬১ হাজার ১০৮ জন পেয়েছেন। খাদ্যসাথী ২ লক্ষ ৩৩ হাজার, যুবসাথী এক মাসে ১৮ হাজার ৬২২ জন, কৃষক বন্ধু ১৪ হাজার জন পেয়েছেন। এই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ১ লক্ষ ২২ হাজার যুব সাথী পেয়েছেন। পথশ্রীতে ১৬০ কিমি রাস্তা ৬০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০ টি প্রতিজ্ঞার কথা বলেছেন দলের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে। সেই ১০টির মধ্যে আমি ৫ টি প্রতিজ্ঞা শুধু জানাচ্ছি। প্রথমটা হলো লক্ষী ভান্ডার। যারা এটা পান, তারা সারা জীবন পাবেন। মহিলারা লক্ষী ভাণ্ডারে সুরক্ষিত। বিজেপি এক পক্ষ বলে লক্ষী ভাণ্ডার বন্ধ করবে। আরেক পক্ষ বলে লক্ষী ভাণ্ডার বাড়াবে।
বিজেপি শাসিত কোন রাজ্যে লক্ষী ভাণ্ডার নেই।দ্বিতীয় প্রতিজ্ঞা হলো নল বাহিত পানীয়জল বাড়িতে বাড়িতে হবে। ২০৩১ মধ্যে তা করা হবে। তৃতীয় প্রতিজ্ঞা দুয়ারে সরকারের মতো দুয়ারে স্বাস্থ্য প্রকল্প। আপনাদের কোথাও যেতে হবে না। আমাদের চতুর্থ প্রতিজ্ঞা বার্ধক্য ভাতা। যারা পাচ্ছেন তারা তো পাবেনই। যারা আবেদন করেছেন, তারাও দ্রুত এটা পাওয়া শুরু করবেন। পঞ্চম প্রতিজ্ঞা হলো কেন্দ্র দিক না দিক আগামী ৫ বছররের মধ্যে সবার মাথায় ছাদ দেবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার।অভিষেক বলেন, আমি জানি বারাবনি ও সালানপুরে ৮ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক ক্র্যাসারে বা পাথর খাদানে কাজ করেন। তাদের অনেকেই সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এইসব রোগীদের সব রকম সুবিধা দেবো আমরা। রাজ্য সরকার তাদের নিয়ে আলাদা একটা পরিকল্পনা তৈরি করছে। গ্যাস সহ একাধিক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অভিষেক এদিনের সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আগে রান্নার গ্যাসের দাম ছিলো ৪০০ টাকা। আজ কোথায় গেছে ? প্রায় ১ হাজার টাকা। জিরের দাম সাড়ে ৩০০ টাকা কেজি হয়েছে। কেরোসিন তেল থেকে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম আজ কোথায় নিয়ে গেছে মোদি সরকার ?সবশেষে তিনি বলেন, যে সরকার রাজ্যের মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে সেই মোদি সরকারের পতন ঘটাতে ভোটের দিন কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোট দিয়ে দিন। যেমন আজ কষ্ট করে সভায় এসেছেন।

