কুলটিতে পার্কিং জোন কোটি টাকার রাজস্ব কেলেঙ্কারির লিখিত অভিযোগ, উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি বিজেপি নেতার
*বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি বিধানসভার নিয়ামতেরের লছিপুরে দুটি বেসরকারি পার্কিং জোন নিয়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, বেআইনি জমি দখল এবং সামাজিক নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপি কুলটি বিধানসভার সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস আসানসোল পুরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায় , পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম, আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার বা সিপি ডাঃ প্রণব কুমার এবং কুলটির বিজেপি বিধায়ক ডাঃ অজয় কুমার পোদ্দারকে এই ব্যাপারে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে এই পুরো চক্রটির বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের যৌথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।বিজেপি নেতার লিখিত অভিযোগে একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।














এই পার্কিং জোনে আর্থিক অনিয়ম এবং টেন্ডার নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। বলা হয়েছে, লছিপুর রেড লাইট এলাকা বা নিষিদ্ধ পল্লীর কাছে “গব্বর পার্কিং” এবং “রায় পার্কিং” কোনো বৈধ টেন্ডার বা আসানসোল পুরনিগমের অনুমতি ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চালানো হচ্ছে। এর ফলে পুরনিগমের রাজস্ব বিভাগের সরাসরি কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।এছাড়াও সরকারি জমি দখল ও নকশা বহির্ভূত সম্প্রসারণেরও অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়েছে, এই দুটি বেসরকারি পার্কিংয়ের কাছে কোনো অনুমোদিত ব্লু-প্রিন্ট বা বরাদ্দকৃত জমির বৈধ নথি আছে কি না তা সন্দেহজনক।
সরকারি ও সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই এর বিস্তার ঘটানো হয়েছে। অন্য দিকে, ঠিক পাশেই সরকারি ‘মাইন্স বোর্ড অফ হেলথ’ র বৈধ পার্কিংটিকে একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হচ্ছে। এখানে দালালি চক্র ও মানবিক নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ, পার্কিংয়ের আড়ালে সক্রিয় কিছু সমাজবিরোধী ও দালালি চক্র স্থানীয় পিছিয়ে পড়া ও অসহায় যৌনকর্মী এবং ছোট দোকানদারদের অর্থনৈতিক ও মানসিক নিপীড়ন করছে।
যা ঐ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বিঘ্নিত করছে।গোটা অভিযোগে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের জন্য দাবি করা হয়েছে। আরো দাবি করা হয়েছে, পুরনিগম এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে বরাদ্দকৃত জমির পরিমাপ করুক, যাতে বেআইনি দখলের সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা যায়। এর পাশাপাশি রাজস্বের ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে গত ৩ থেকে ৪ বছরে পার্কিং থেকে আয় করা মোট আয় এবং পুরনিগমের তহবিলে জমা পড়া টাকার আর্থিক তদন্ত করা হোক। একাই, অভিযুক্ত কাছ থেকে বকেয়া টাকা উদ্ধার করা হোক।
এই বেআইনি পরিচালনায় যে সমস্ত পুর আধিকারিকরা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মদত জোগাচ্ছেন, অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।বিজেপি নেতার দাবি, অনুমোদিত নকশা ছাড়া তৈরি সমস্ত বেআইনি কাঠামো ভেঙে ফেলা হোক এবং নিপীড়িত মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে সুশাসন ও আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন। কাজল দাস স্পষ্ট জানিয়েছেন , আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসানসোল পুরনিগম, জেলাশাসক এবং পুলিশের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ টাস্ক ফোর্স’ গঠন করে এর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা হোক। যাতে এলাকার বাসিন্দারা গোটা বিষয়ের সত্যতা জানতে পারেন।

