ASANSOL

দুর্গাপুরে পাঁচ জেলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর, ” ডাবল ইঞ্জিন ” নিয়ে দিলেন বার্তা

*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে দুর্গাপুরে আসেন। রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল দিলীপ ঘোষ সহ পাঁচ মন্ত্রী, পাঁচটি জেলার ৫০ জন বিজেপি বিধায়ক, দুই বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ও জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো সহ জেলার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রাজ্যের মুখ্য সচিব, ডিজিপি সহ অন্য সরকারি আধিকারিক এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে জেলার উন্নয়নমূলক কাজ পর্যালোচনা করেন। ভবিষ্যতে সেই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে কুভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক বৈঠকের নামে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, যা আগের সরকারের আমলে হয়েছিল, এবার তা হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। কোথাও রাস্তা বন্ধ করা হয়নি৷ তিনদিন ধরে কোন হোটেল বুক করা হয়নি। বিকেলে বৈঠক করা হয়েছে। সন্ধ্যের মধ্যে সবাই ফিরে যাবেন। এমন বৈঠক আরো সব জেলায় করা হবে। যাতে একটা সমন্বয় তৈরি হয়। ৫ টি জেলার ৫৭ বিধানসভার মধ্যে ৫০ টিতে বিজেপি জিতেছে। তারা সবাই এসেছেন। ৭ জন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ককেও ডাকা হয়েছিলো। মনে হয়, তারা কেউ আসেননি। বীরভূমের মুরারইয়ের বিধায়ক আমাকে কাল ম্যাসেজ করে বলেছিলেন আসবে। তিনিও আসেননি। আমাদের সরকার বিরোধীদের ডাকবে। আগের সরকারে তা ছিলোনা।

আমাদের ফোন কেউ ধরতো না। তিনি আরও বলেন যে, এই ডাবল ইঞ্জিন বিজেপি সরকার জনগণের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য সচেষ্ট থাকবে এবং জনগণকে বোকা বানানোর মতো কোনো নাটক বা প্রকল্পের কথাবার্তা বলা হবে না। যেটা করা হবে, সেটাই বলা হবে। প্রতি বছর মনসুন বা বর্ষাকালে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা ডিভিসি থেকে জল ছাড়ার কারণে বাংলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রমাগত দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনকে দোষারোপ করতেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে, এই বিষয়ে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। বাংলাকে পাঁচটি বিভাগ বা জোনে ভাগ করা হয়েছে।

যাতে কোথাও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি না হয়। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এই জেলার নয় বিধায়ক আমাকে বলেছেন, চিত্তরঞ্জন থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত গোটা এলাকাকে আগের সরকার খরা করে দিয়েছে। এই সরকার এবার এই জেলায় কর্মসংস্থান বাড়াতে উদ্যোগী হবে। শিল্প আনার সবরকম চেষ্টা করবে। এছাড়াও, সিন্ডিকেট, কাটমানি, তোলাবাজি বন্ধ হয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। রাজস্ব আদায় ঠিক মতো হচ্ছে কি না বা তা কোথাও লিকেজ হচ্ছে কি না, তা দেখতে বলা হয়েছে। শুধু বীরভূমের উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি, সেখানে দিনে পাথর থেকে ৩০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হতো।

নতুন সরকার আসার পরে একটু টাইট দেওয়াতে, তা বেড়ে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা হয়েছে। ঐ জেলায় দিনে ৫ কোটি, একমাসে ১৫০ কোটি, বছরে ১৮০০ কোটি রাজস্ব ফাঁকি পড়েছে। এটা পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান সহ সব জেলায় আছে। যেমন বালি। এই বালি নিয়ে এক এক রকম দাম নেওয়া হচ্ছে। আমি বলছি, প্রয়োজনে বালির দাম বেঁধে দিন। বালিঘাটে নজরদারি করতে হবে। সরকারের বদনাম করতে চেষ্টা করা হবে। তারজন্য একটা চক্র কাজ করছে।। সরকার কি চায়, তার একটা ম্যাসেজ সব স্তরের আধিকারিকদের দিতে এই বৈঠকের আয়োজন।

l

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *