ASANSOL

তীব্র গরমে বিদ্যুৎহীন পান্ডবেশ্বরের গ্রাম ইসিএলের কোলিয়ারিতে বিক্ষোভ

*বেঙ্গল মিরর, পান্ডবেশ্বর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* তীব্র গরমে সাতদিনেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন মাধাইপুর গ্রাম। বিদ্যুতের দাবিতে ইসিএলের কোলিয়ারিতে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ।তীব্র গরম ও দাবদাহের মধ্যে, টানা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় হাঁসফাঁস দশায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার গোগলা গ্রাম পঞ্চায়েতের হদেরডাঙ্গা গ্রামের গ্রামবাসীরা। বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে কয়লাখনি কর্তৃপক্ষের দোরগোড়ায় পৌঁছে চলল বিক্ষোভ। কিন্তু মিলল না কোনো স্থায়ী সমাধান।পশ্চিম বর্ধমান জেলার লাউদোহা ফরিদপুর থানার গোগলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মাধাইপুর হদেরডাঙ্গা গ্রাম।

গত প্রায় সাত থেকে দশ দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন এই গ্রাম এলাকা। জানা গেছে, গ্রামের ট্রান্সফরমারটি পুড়ে যাওয়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। এই প্রচন্ড দাবদাহের গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মাধাইপুরের বাসিন্দারা। অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে সোমবার সকালে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা এসে মাধাইপুর কোলিয়ারির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে।

এদিনের বিক্ষোভে থাকা এক গ্রামবাসী সুকুমার ঘোষ বলেন, ইসিএলের সঙ্গে আমাদের গ্রামের একটা কো-অপারেশন ছিল যে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে আমাদের গ্রামে জল, বোরহোল বা ইসিএলের অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। তার বদলে আমরা বিদ্যুৎ পাবো। কিন্তু বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ কেটে দেওয়া হয়েছে। আজ প্রায় ১০ দিন হলো আমরা অন্ধকারে আছি।

আমরা চাইছি আমাদের যে কথা ছিল সেই অনুযায়ী গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়া হোক। এখন তারা বলছেন বিদ্যুৎ দিতে পারবেন না। তারা যদি আমাদের বিদ্যুৎ না দেন, তবে আমরাও আমাদের এলাকায় তাদের বোরহোল, কোলিয়ারির নোংরা জল ফেলা বা পরিবেশ দূষণ করতে দেব না। আমরা আপাতত সাত দিনের সময় দিয়েছি। এর মধ্যে ব্যবস্থা না হলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব বলে তিনি জানিয়েছেন। এদিকে, এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফরিদপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাধাইপুর কোলিয়ারির এজেন্ট ও কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা সেখানে আসেন।

এরপর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্য থেকে কয়েকজন প্রতিনিধি, কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ এবং ফরিদপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা মিলে একটি আলোচনায় বসেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।অন্যদিকে, কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের তরফে, ইসতাক হোসেন বলেন, আমাদের স্পষ্ট গাইডলাইন আছে যে আমরা কোনো বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ রাখতে পারব না। আমরা ধাপে ধাপে সমস্ত বেআইনি লাইন কাটছি। ইসিএল এখন প্রচন্ড আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আছে।

শুধু আমাদের এই মাইনেই প্রতি মাসে প্রায় ১১ কোটি টাকা ইলেকট্রিক বিল দিতে হচ্ছে। তাই ইসিএলের তরফ থেকে এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়।কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের এই অনড় অবস্থানের পর গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য আপাতত এক সপ্তাহের সময় দিচ্ছেন। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা সুষ্ঠু সমাধান না বেরেয়, তবে তারা আরও বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। এখন দেখার, এই তীব্র গরমে মাধাইপুর গ্রামের অন্ধকার কবে কাটে। নাকি বিদ্যুৎ নিয়ে সংঘাত আরো চরমে উঠে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *