ASANSOLASANSOL-BURNPUR

বার্ণপুরে মন্দিরে জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা সাড়ম্বরে পালিত

*বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সোমবার বার্ণপুরের জগন্নাথ মন্দিরে সাড়ম্বরে পালিত হল শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা পূর্ণিমা। এদিন সকাল থেকেই মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাকে মন্দির থেকে বাইরে এনে বিশেষ বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর ১০৮টি কলসের পবিত্র জল, প্রায় ৪৫ ধরনের ভেষজ, মধু, ঘি সহ নানা পবিত্র উপাদান দিয়ে মহাস্নান সম্পন্ন হয়।মন্দিরের সেবায়েত প্রতাপ কুমার বারিক বলেন, স্নান পূর্ণিমা জগন্নাথ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎসব।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহাস্নানের পর ভগবান জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই তাঁকে ‘অনবসর ঘরে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৫ দিন ধরে ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক উপাদানের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে তাঁর সেবা ও চিকিৎসা করা হয়। এই সময় ভক্তদের জন্য মন্দিরে দর্শন বন্ধ থাকে। অনবসর পর্ব শেষে রথযাত্রার দিন ভগবান পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেন এবং রথে চড়ে নগর পরিক্রমায় বার হন।তিনি আরো বলেন, বার্নপুর জগন্নাথ মন্দিরে ১৯৭৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে স্নান পূর্ণিমা ও রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। প্রথমদিকে ওড়িয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এই মন্দির সর্বজনীন ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

বাঙালি, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ প্রসাদ বিতরণ করা হয় এবং প্রসাদের কুপন বিক্রির অর্থ মন্দিরের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়।মন্দিরের সেবায়েত মানস কুমার নায়ক বলেন, ভগবান জগন্নাথকে কলিযুগের অবতার হিসেবে মানা হয়। তাই তাঁর লীলায় মানবজীবনের প্রতিফলন দেখা যায়। মানুষের মতোই গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীরকে শীতল করার প্রতীক হিসেবেই স্নান পূর্ণিমার আয়োজন করা হয়।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে যেখানে ‘সোনা কুয়ো’-র জল ব্যবহার করা হয়, সেখানে বানপুর জগন্নাথ মন্দিরে নিজস্ব পবিত্র কুয়োর জল দিয়েই এই আচার সম্পন্ন হয়।তিনি আরো বলেন, অনবসর পর্ব শেষে ‘নবযৌবন দর্শন’-র মাধ্যমে ভগবান পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেন। এরপর রথযাত্রায় রথে আরোহণ করে ভক্তদের মাঝে বেরিয়ে আসেন। যা ভগবান জগন্নাথের মানবলীলা ও ভক্তদের প্রতি তাঁর অগাধ স্নেহের প্রতীক।স্নান পূর্ণিমা উপলক্ষে দিনভর মন্দিরে পূজা, আরতি, ভজন-সংকীর্তন ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। আগামী রথযাত্রাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বার্ণপুরের বানপুর জগন্নাথ মন্দির ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *