ইস্টার্ন রেলওয়ে ইজ ওয়াচিং ইউ”র শুরু প্রচার স্টেশন নোংরা করা ও থুতু ফেলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি
“. *বেঙ্গল মিরর, কলকাতা, রাজা বন্দোপাধ্যায়:* পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে, পূর্ব রেলওয়ে শনিবার হাওড়া স্টেশনে আয়োজন করে এক অনুষ্ঠানের। উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রেল পরিচ্ছন্নতা সচেতনতা অভিযানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করে। “ইস্টার্ন রেলওয়ে ইজ ওয়াচিং ইউ” বা পূর্ব রেলওয়ে আপনার ওপর নজর রাখছে” শীর্ষক এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক শুরু হয়। এই পরিচ্ছন্নতা সচেতনতা অভিযানটি মূলতঃ চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হয়েছিল। এদিনের উদ্বোধনের মাধ্যমে পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের নেতৃত্বে এটি কৌশলগতভাবে তৃতীয় পর্বে পদার্পণ করল।














এই নতুন পর্বে রেলের সমস্ত জায়গায় নোংরা আবর্জনা ফেলা এবং থুতু ফেলার বিরুদ্ধে একটি কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।এই অভিযানের মূল বার্তা হলো, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য পূর্ব রেল সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করছে। রেলের কর্মীদের পাশাপাশি ক্লোজড সার্কিট টিভি (সিসিটিভি) ক্যামেরার এক বিশাল নেটওয়ার্ক সক্রিয়ভাবে যাত্রীদের আচরণের ওপর নজর রাখবে। কেউ নোংরা ফেলতে বা থুতু ফেলতে গিয়ে ধরা পড়লে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলেই জরিমানা করা হবে।
জনগণকে এই প্রক্রিয়ায় শামিল করার জন্য একটি চমৎকার ও অনন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার ফলে যাত্রীরা এখন স্টেশনগুলি পরিষ্কার রাখার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন। কোনো রেলযাত্রী কাউকে নোংরা ফেলতে বা থুতু ফেলতে দেখেন, তবে তারা সেই অপরাধীর একটি ছবি তুলতে পারেন ও সঠিক লোকেশন বা জায়গার নাম উল্লেখ করে তা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নম্বর ৯০০২০২২৭৮০-এ পাঠাতে পারেন। এর পর পূর্ব রেল দ্রুত সেই অপরাধীকে শনাক্ত করে ঘটনাস্থলে জরিমানা করবে।
আর যে যাত্রী ছবিটি পাঠিয়েছেন তাকে “ক্যাপ্টেন ক্লিন” হিসেবে সম্মানিত করা হবে ও পূর্ব রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি অফিসিয়াল প্রশংসাপত্র দেওয়া হবে।পূর্ব রেলের ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস’র পরিবেশনায় একটি আকর্ষক “নুক্কড় নাটক” (পথনাটক)-এর মাধ্যমে এই চমৎকার ও অনন্য অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে শুরু হয়। নাটকটি শেষ হওয়ার পর, জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর পুরো স্টেশন এলাকাটি ঘুরে পরিদর্শন করেন। তিনি রেলযাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ও এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন , পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যাত্রীদের সরাসরি সহযোগিতা ছাড়া এটি বজায় রাখা একেবারেই অসম্ভব। এরপর জেনারেল ম্যানেজার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশংসাপত্রটিতে স্বাক্ষর করেন এবং এই উদ্যোগের শুভ সূচনা চিহ্নিত করতে এটি উন্মোচন করেন। এই অনুষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজারের পাশাপাশি হাওড়া ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) বিশাল কাপুর, পূর্ব রেলওয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তথা পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি সহ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল হেডস অফ ডিপার্টমেন্টস এবং বিভিন্ন সিনিয়র ডিভিশনাল অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার দ্বিতীয় পর্বের “৩০ মিনিটের চ্যালেঞ্জ”-এ সেরা পারফরম্যান্সের জন্য ট্রফিও বিতরণ করা হয়। শিয়ালদহ ডিভিশনকে বিজয়ীর ট্রফি এবং হাওড়া ডিভিশনকে রানার্স-আপ ট্রফি জেনারেল ম্যানেজারের হাত থেকে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর বলেন , স্টেশন পরিবেশকে একদম নিখুঁত ও পরিচ্ছন্ন করে তোলার মাধ্যমে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে পূর্ব রেল নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন , এই অনন্য ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের মাটিতে চোখ-কান খোলা রাখার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে একটি সাময়িক পছন্দের পরিবর্তে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার জন্য সমস্ত ডিভিশন জুড়ে জাবাবদিহিতার সংস্কৃতি সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এই অসাধারণ এবং বৈপ্লবিক কর্মসূচিটি প্রমাণ করে যে জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে পূর্ব রেল সর্বদাই অগ্রভাগে থাকে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন , এই অভিযানটি কেবল একটি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নয়, বরং এটি সমাজ চালিত পরিচ্ছন্নতার দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তিনি বলেন , পূর্ব রেলওয়ে সর্বদা জনসচেতনতা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। যেহেতু পরিচ্ছন্নতা কোনো বিকল্প নয় বরং একটি অভ্যাস, তাই প্রতিটি যাত্রীকে হাত মেলানোর, “ক্যাপ্টেন ক্লিন” হওয়ার এবং রেল চত্বরকে দাগহীন ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।


