আসানসোল বাজারের উন্নয়নের রূপরেখা, আধুনিক ও সুশৃঙ্খল শহর গড়ার পরিকল্পনা আধিকারিকদের সঙ্গে পরিদর্শনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* শহরকে আরো পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ করে তোলার লক্ষ্যে আসানসোল বাজারে পরিদর্শন করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রবিবার তিনি আসানসোল পুরনিগমের আধিকারিক এবং আসানসোল বাজার কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বাজার এলাকা ঘুরে দেখেন। বাজারকে আরো আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।পরিদর্শনের পর মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা পুরনো হকারদের উচ্ছেদ নয়, বরং পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার।














ইতিমধ্যেই তিনটি সম্ভাব্য জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে ২০ থেকে ৪০ বছর ধরে ব্যবসা করা হকারদের স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার কথা মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।অগ্নিমিত্রা পাল আরো বলেন, বাজার এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি কালিপাহাড়ি থেকে দামোদর ফ্লাইওভার সঙ্গে দামোদর নদীকে ঘিরে রিভারফ্রন্ট গড়ে তোলা এবং দামোদরের উপর নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে আসানসোল ও বাঁকুড়ার যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।তিনি আরো বলেন, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে হটন রোড সহ একাধিক এলাকায় ফুটপাত তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই ডিপিআর বা ডিটেইলস প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বাজারের সামনে বা গলিতে বহু বছর ধরে ব্যবসা করা হকারদের পুনর্বাসনের সুযোগ বিবেচনা করা হবে।
তবে রাস্তার ধারে বিপজ্জনকভাবে দোকান বসিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না করা হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গা মন্দিরের সামনে ও বাজারের বাইরে রাস্তা দখল করে বসা হকারদের ছটপুজো পর্যন্ত সময় দিয়ে নোটিস দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, সকলের পুনর্বাসন সম্ভব নয়। শুধুমাত্র দীর্ঘদিনের পুরনো হকারদের ক্ষেত্রেই পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পুনর্বাসনের জন্য চিহ্নিত স্থানগুলিও বাজার এলাকার মধ্যেই রাখা হবে, যাতে ব্যবসায়ীদের জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে।মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, আসানসোল বাজারকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। শহরের উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থ এবং ব্যবসায়ীদের জীবিকাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।


