পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল এবং সংলগ্ন এলাকায় সাড়ম্বরে পালিত হলো নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৩ তম জন্মদিন

আসানসোল, ২৪ শে  জানুয়ারি,২০২০, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত:  পশ্চিম বর্ধমান জেলা সদর আসানসোলে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৩ তম জন্মদিন ২৩ শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সাড়ম্বর ও সম্মানের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয়। 

riju advt

এদিন আসানসোল পুরনিগমের পক্ষ থেকে এসবি গরাই রোডের ময়দাকল মোড়ে নেতাজির মূর্তির সামনে এক অনুষ্ঠানে পুরনিগমের মেয়র পারিষদ অভিজিৎ ঘটক সহ অন্যান্য নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।     

    একইভাবে আসানসোলে মহকুমাশাসকের কার্যালয় চত্বরে এদিন এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মহকুমাশাসক দেবজিৎ গাঙ্গুলি সহ অন্যান্যরা নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করেন। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানর আয়োজন করা হয়। 

  আসানসোলের ট্রাফিক কলোনিতে নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক ও বিধায়ক তথা আসানসোল দূর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ চেয়ারম্যান তাপস বন্দোপাধ্যায়। 

  এরই সঙ্গে এদিন আসানসোল গ্রাম সুভাষ সমিতির উদ্যোগে নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষে সকালে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয় এবং শোভাযাত্রার শেষে রামসায়ের ময়দানের সামনে নেতাজির মূর্তির সামনে মাল্যদান করেন পুরণিগমের মেয়র পারিষদ অভিজিৎ ঘটক, ক্লাবের তরফ থেকে বাচ্চু রায়, অসিত বরণ রায়, প্রহ্লাদ রায়, সমাজসেবী ও ব্যবসায়ী শচীন রায় প্রমুখ। মেয়র পারিষদ অভিজিৎ ঘটক এখানে বলেন, ” আমরা যে দুজন মহান ব্যক্তিকে আদর্শ করে ছোট থেকে বড় হই তারা হলে নেতাজি এবং স্বামী বিবেকানন্দ। নেতাজি  আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করে ভারতকে স্বাধীন করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন কিন্তু বর্তমান যে ভারতবর্ষে আমরা বাস করি নেতাজি সেই ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখেন নি। নেতাজির আদর্শকে যুব সমাজ পাথেয় করে চললে তাদের প্রতিষ্ঠিত হবার পথকে কেউ আটকাতে পারবেনা।” সুভাষ সমিতির উদ্যোগে নেতাজী কে সম্মান জানানোর প্রয়াসকে মেয়র পারিষদ সাধুবাদ জানান। এরই সঙ্গে সুভাষ সমিতির উদ্যোগে এসবি গরাই রোডের রামসায়ের ময়দানে চারদিনের বার্ষিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।                             অন্যদিকে, এদিন  জামুড়িয়ার চিঁচুড়িয়ার  সুভাষ সমিতির উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়।  
সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পুরনিগমের মেয়র তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃনমুল কংগ্রেসের সভাপতি জিতেন্দ্র তেওয়ারি। তিনি নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। মেয়র বলেন, “এই অনুষ্ঠানে এবার প্রথমবার আসার সুযোগ পেলাম। এতদিন লোক মুখে শুনেছিলাম যে, প্রতি বছর এই ক্লাব কি করে। আজ এসে তা দেখলাম। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্য সরকার হাজারের বেশি ক্লাবকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এই ক্লাব সেই অনুদানের যে সদব্যবহার করেছে, তাদের কাজ দেখে তা বোঝা যাচ্ছে। এখানে জিম তৈরী করা হয়েছে। বাচ্চাদের জন্য পাঠ্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। গরীবদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করার পাশাপাশি, ১৫ হাজার মানুষের নরনারায়ণ সেবার ব্যবস্থা করেছে। নেতাজির বিচারধারা থেকে দেশের মানুষদের মধ্যে থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য, একটা চেষ্টা কিছু লোক করে যাচ্ছে। যে বাংলার মানুষেরা বাংলার জন্য গর্ব করতো, সেই বাংলার সত্বাকে অস্বীকার করার বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এসে গেছে। নেতাজির বিচারধারা প্রতিটা বাঙালির রক্তের বিন্দু বিন্দুতে আছে। যে রকমভাবে কোনদিন নেতাজিকে চেপে রাখা যায় নি, তেমনই বাংলার একজন মানুষ ও তাদের সংস্কৃতিকে চেপে রাখা যাবেনা।”