২৯ তম বিবাহবার্ষিকীতে রাকেশ কেডিয়ার সস্ত্রীক রক্তদান; ব্লাড ক্যাম্পের আয়োজন আসানসোলের আর এল কে নার্সিংহোমে

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২০, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত: 
 দেশজুড়ে জারি রয়েছে লকডাউন । লকডাউন ঘোষণার আগে থেকেই করোনা আতঙ্কে রক্তদান শিবির খুব কমই হচ্ছে ৷ চরম রক্তসংকটে ভুগছে রাজ্যের হাসপাতালগুলো। ব্লাডব্যাঙ্ক গুলিতে রক্তের চাহিদা মারাত্মক আকার নিয়েছে।

riju advt

 রক্তের এই নজিরবিহীন  আকাল মেটাতে এগিয়ে এল আসানসোলে বড় বাজার সংলগ্ন এন .এস রোডে অবস্থিত আর .এল. কে নার্সিং হোম। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো নার্সিং হোমের প্রধান রাকেশ কুমার কেডিয়া এবং তাঁর পত্নী শ্রীমতি  কবিতা কেডিয়ার আজকে ২৯ তম বিবাহ বার্ষিকী ছিল। 

আর এই বিবাহ বার্ষিকীর দিন টিকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করে রাখলেন দুজনেই আলাদা ভাবে রক্তদান করে যা সত্যিই প্রশংসার অপেক্ষা রাখেনা।
  এ ব্যাপারে রাকেশ কেডিয়া বলেন,” করোনা ভাইরাসের কারণে রক্তসঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে করোনা ছাড়াও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীরা ভীষণভাবে রক্তের অভাবে ভুগছেন। আর এই কারণেই আমি এবং আমার স্ত্রী বিবাহবার্ষিকীকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করব এই উদ্যোগ দেখে শহরের অন্যান্য নার্সিংহোম একইরকমভাবে রক্তসংকট মেটাতে এগিয়ে আসবেন ব্লাড ক্যাম্পের মাধ্যমে।”

আজ সকাল থেকে মোট ১৮ ইউনিট রক্ত সংগৃহীত হয় যা করোনা পরিস্থিতির আবহে ভীষণভাবে প্রশংসনীয়।
 আজ দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত এই রক্তদান  শিবির চলে।  
   উপস্থিত ছিলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের এসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট শ্রী সৃজিত মিত্র। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বার্নপুর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এন্ড ভলান্টারি ব্লাড ডোনারস এর পক্ষ থেকে প্রবীর ধরের কন্যা তনজিমা ধর। সঙ্গে ছিলেন জেলা হাসপাতাল ব্লাড ব্যাংক কর্মী বেনু সেনগুপ্ত , দেবরাজ চৌধুরী।

 নার্সিংহোমের তরফ থেকে রাকেশ কেডিয়া , কবিতা কেডিয়া ছাড়াও ছিলেন তাদের  পুত্ররা, গোপাল বিজয়বর্গী, গুড্ডু বর্মন, বিলাল খান, এছাড়া নার্সিং স্টাফ যেমন সোনা মাজি প্রমুখ। অনেক নার্সিং স্টাফ রক্তদান করেন।
 বার্ন পুর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এন্ড ভলান্টারি ব্লাড ডোনারস এর পক্ষ থেকে তনজিমা ধর বলেন, “হাসপাতালের ব্লাডব্যাঙ্কের উপর নির্ভরশীল সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের প্রচুর রোগী এবং এর মধ্যে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যাও অনেক ।  দুর্ঘটনা আর অস্ত্রোপচারজনিত কারণে রক্ত যোগান দরকার। আর তার ওপর বর্তমানে করোনা আতঙ্কের কারণে রক্তের যোগান তলানিতে এসে ঠেকছে। সেক্ষেত্রে NACO, WHO এবং অন্যান্য গাইডলাইন মেনে ব্লাড ক্যাম্প গুলি করা হচ্ছে।” 
 এই কারণেই আর এল কে নার্সিংহোমের ব্লাডক্যাম্পের ভাবনা। 
আসানসোল জেলা হাসপাতালের এসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট সৃজিত মিত্র বলেন, ” করোনা পরিস্থিতির আবহে নার্সিং হোমের রক্তদানের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
 কিন্তু সারা বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে ভারতবর্ষে করোনা যেভাবে থাবা বসাচ্ছে এবং এপ্রিলের গরম আবহাওয়ার মধ্যে উদ্ভুত রক্তসঙ্কটে নার্সিং হোমের রক্তদানের উদ্যোগ সমাজের কাছে প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার প্রমাণ রাখে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।