পাশে চিকিৎসক থেকে নার্স / কাজ করতে হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে / স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে সরব আসানসোল জেলা হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা / সিএমওএইচকে স্মারকলিপি

বেঙ্গল মিরর,  রাজা  বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ১৩ মেঃ করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯ এর মতো মহামারীর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। অথচ, তাদের দেখা, পাশে থাকা ও সমস্যা শোনার মতো কেউ নেই। এমনই সব গুরুতর অভিযোগ নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচ সহ অন্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বুধবার সরব হলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা।

riju advt

এদিন দুপুরে জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক ও প্যাথোলজিতে কর্মরত ২০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা জেলার সিএমওএইচকে লেখা নিজেদের দাবির একটি স্মারকলিপি হাসপাতাল সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাসকে দেন। তারা সুপারের সামনে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দেন। সুপার তাদের সঙ্গে গোটা বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘক্ষন আলোচনার করার পরে, স্মারকলিপিটি সিএমওএইচের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। 

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পক্ষে কস্তুরি রায়, বৃন্দাবন মন্ডল, রমারজ্ঞন মন্ডল ও সঞ্জীব সুকুল বলেন, আমরা সেই মার্চ মাস থেকে এমন একটা মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করে কাজ করছি। অথচ আমাদের দেখার কেউ নেই। সমস্যা শোনার মতো কেউ নেই। জেলার সিএমওএইচ বা নোডাল অফিসার কি করেন, আমরা তা জানিনা। আমাদেরকে প্রয়োজনীয় পিপিই, স্যানিটাইজার সহ অন্যসব কিছু দেওয়া হয়নি। তাদের আরো অভিযোগ, কোন রকম লিখিত নির্দেশ ছাড়া, শুধুমাত্র মোবাইল ফোনে কাজ করতে যেতে বলা হচ্ছে। ডুবুররডিহি চেকপোস্টে কাজ করতে পাঠানো হচ্ছে। অথচ সেখানে ন্যুনতম কোন ব্যবস্থা নেই। বসার জায়গা নেই। খাবার জল সেখানে পাওয়া যায় না। এইসব সমস্যার কথা আমরা কাকে বলবো?  সিএমওএইচ বা এসিএমওএইচ আমাদের কথা শোনেন না। বেশি কিছু বললে, আমাদেরকে গ্রেফতার করানোর হুমকি দেওয়া হয়। এইরকম পরিস্থিতিতে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ তা জানুক। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আমরা কাজ করবো। কেউ অসুবিধায় পড়ুক, আমরা তা চাইনা। আমরা এদিন লিখিতভাবে জানালাম সবকিছু। দেখবো কি হয়। 
এদিন এই মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পাশে ছিলেন জেলা হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা। তারাও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সরব হন। 
সুপার বলেন, আমি স্মারকলিপি পেয়েছি। সিএমওএইচকে তা পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে এই প্রসঙ্গে সিএমওএইচ ডাঃ দেবাশীষ হালদার কোন মন্তব্য করতে চাননি।