মমতা দিদি যদি চান আমাদের কৃষকদের তালিকা পাঠান; ২ দিনের মধ্যে তাদের জন্যে ৬০০০ টাকা করে পাঠাবো : ভার্চুয়াল সভায় বললেন অমিত শাহ

কলকাতা, বেঙ্গল মিরর, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত, ৯ ই জুন ২০২০:  পাখির চোখ ২০২১। আর তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ ভার্চুয়াল বৈঠকের প্রথম থেকেই ছিলেন আক্রমনাত্মক। তার বক্তৃতার মাধ্যমে অমিত শাহ্  বাংলা দখলের সুর চড়িয়েছেন। একই সঙ্গে মমতার সরকারকেও আক্রমণ শানান অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘বাংলা একমাত্র জায়গা যেখানে সাম্প্রদায়িক হিংসা এখনও চলছে, এটা বন্ধ করা উচিত। আমি আশ্বস্ত করছি যে বিজেপি এখানে কেবল একটি বিপ্লব বা রাজনীতি করার জন্য নয়, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলা গড়ার সংকল্প নিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের 
কৃষকদের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন অমিত শাহ্‌।
এদিন তিনি বলেন, ‘আমি আবার মমতা দিদিকে অনুরোধ করছি – আপনি যদি আমাদের কৃষকদের তালিকা পাঠান তবে আমরা তাদের ৬,০০০ টাকা পাঠাবো। কেন আপনি আপনার কৃষকদের সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পেতে বাধা দিচ্ছেন? বাংলায় প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকার পিডিএসের মাধ্যমে ৩.৮৪ লক্ষ মে.টন খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়েছে। এটি আমরা রাজ্য সরকারকে যে সহায়তা দিয়েছি তারও ওপরে।’ 

riju advt

এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘মমতা দিদি, দরিদ্র মানুষের অধিকার নিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ করুন। আপনি অন্যান্য অনেক বিষয় নিয়ে রাজনীতি করতে পারেন, তবে ‘স্বাস্থ্য’ নয়। বাংলার দরিদ্র জনগণের কি নিখরচায় ও উন্নতমানের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নেই? তাহলে কেন আপনি এখানে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অনুমতি দেবেন না?’ তিনি বলেন বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার এক মিনিটের মধ্যে আয়ুষ্মান চালু হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় বর্তমানে ৫০ কোটি মানুষ এই বিমার সুবিধা পাচ্ছেন ও বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা অবধি প্রয়োজনে চিকিৎসায় খরচা করতে পারছেন। এরপর এই প্রকল্পের সাহায্যে বেসরকারি হাসপাতালে; বিনামূল্যে চিকিৎসা করানো যাবে। তবে এই প্রকল্প বাংলায় চালু করতে রাজি নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।
  
একসঙ্গে এত সংখ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানো নিয়ে রেলের পদক্ষেপের সমালোচনা করে এর আগে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনকে ‘করোনা এক্সপ্রেস’ বানানোর অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আজ অমিত শাহ বলেন, ‘মমতা দিদি, ওই করোনা এক্সপ্রেসে চড়েই তৃণমূল এ রাজ্যের বাইরে চলে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি সিএএ-এর বিরোধিতা কেন করছেন তা ওনার পরিষ্কার হওয়া দরকার। নমশুদ্র এবং অন্যান্য অন্যান্য সম্প্রদায় যদি দেশে শ্রদ্ধার সাথে বসবাস করে তবে আপনার সমস্যা কী? বাংলার মানুষও আপনাকে এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করছে। আপনাকে উত্তর দিতে হবে। মমতা দিদি আপনি আমাদের হিসাব চান, আমি তো হিসাব নিয়ে এসেছি। আপনিও কাল সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের সরকারের হিসাব দিন, এবং কোনো বোমা বিস্ফোরণ এবং বন্ধ কল কারখানার সংখ্যা দেবেন না মমতা দিদি।’

বাংলার মানুষের উদ্দেশে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আবেদন, ‘সিপিএম, তৃণমূলকে সুযোগ দিয়ে আপনারা দেখলেন, এবার বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীকে একবার সুযোগ দিন। সোনার বাংলা গড়ে তোলা হবে।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভার্চুয়াল সভা করে একদিকে যেমন দলের তৃণমূল-স্তর পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেন শাহ, ঠিক তার সঙ্গে শাসকদল তৃণমূলকেও কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন বিজেপির এই শীর্ষ নেতা।