স্কুল শিক্ষকের উদ্যোগে লছিপুর যৌনপল্লীবাসীদের ডিম-ভাতের আয়োজন

redlight area

riju advt

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল :

করোনা আবহে গত প্রায় চারমাস লকডাউনের পর আনলকড পর্ব শুরু হয়ে গেলেও সীতারামপুরের লছিপুর যৌনকর্মীরা তাদের পেশা শুরু করতে পারছে না ৷ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনার আবহ ৷ আশেপাশের যৌনপল্লী বাদ দিলেও শুধুমাত্র লছিপুরেই বাসিন্দার সংখ্যা পাঁচশোর কম নয় ৷ আজ সকলকে ভরপেট ডিম-আলুর তরকারীসহযোগে পিকনিকমুডে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল ৷ উদ্যোক্তা ছিলেন ইষ্টার্ন রেলওয়ে এইচ এস স্কুলের শিক্ষক বিশ্বনাথ মিত্র ৷ তিনি এবং তার সর্বক্ষণের সহযোগী অ আ ক খ ক্লাবের সদস্যরা সকাল থেকে এই রান্নার আয়োজন করেন ৷ প্রসেনজিৎ দাশ, বিট্টু, বাবাই দাশ অরিন্দম সানি এদের ভিতর অন্যতম ৷

এখানকার অনেক মেয়ে তাদের সন্তানদের বাইরে বোর্ডিং স্কুলে রেখে পড়ায় ৷ এরা চায় না এদের সন্তানেরা তাদের অবাঞ্চিত পেশার সংগে যুক্ত হোক ৷ পিঙ্কি নামে এক যৌনকর্মীর সন্তান চিত্তরঞ্জনের একটি ইংরেজী মাধ্যম বোর্ডিং স্কুলে পড়াশুনা করে ৷ লকডাউনের ফলে তারও রোজগার শূন্য ৷ স্কুল কর্তৃপক্ষ তাড়া দিচ্ছে বকেয়া ফিস মিটিয়ে দিতে ৷ ভয়ে ছেলে অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না ৷ এরকম অবস্থা অনেকেরই ৷ এখানে অধিকাংশের রেশন কার্ড না থাকায় দুর্বিষহ অবস্থার ভিতর জীবন অতিবাহিত হচ্ছে ৷ যেসব যৌনকর্মী এতদিন অবস্থাপন্ন ছিল, রোজগারে টান পড়ায় ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস একে একে বিক্রি করতে শুরু করছে ৷ অনেকে মাঠ থেকে কচুপাতা কলমী শাক সংগ্রহ করে দুটো পয়সার মুখ দেখছে ৷ খুশবুকে ওর স্বামী দিল্লীতে বিক্রি করে চেয়েছিল ৷ পেটে বাচ্চা নিয়ে পালিয়ে প্রথমে কলকাতায় ও পরে এখানে ঠাঁই নেয় ৷ এখন সে আর এক অসম সংকটের মুখোমুখী ৷ চারবছরের ছেলেকে নিয়ে তার হেঁসেল কীভাবে চলবে খুশবু জানে না ৷ কিছুদিন আগে অবধি গৌতম বিশ্বাস নামে একজন স্থানীয় ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে কমিউনিটি কিচেন চালিয়েছিল ৷ এখন সেটিও বন্ধ ৷
শিক্ষক বিশ্বনাথ মিত্র মহিশীলার বেশ কয়েকবার এদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ৷ বিভিন্ন শুভ্যানুধায়ীরা এ ব্যাপারে তাকে প্রভূত সাহায্য করেন ৷ বিশ্বনাথবাবু জানান, তিনদিন আগে জনৈক যৌনকর্মীর এক সন্তান তার কাছে ডিমভাত খাবার আব্দার জানায় ৷ তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এই অঞ্চলের সকল বাসিন্ধাকে মধ্যাহ্নভোজ করাবেন ৷ এইদিন প্রায় চারশোজন পাত পেরে খান ৷ দিশা জনকল্যান এই খাবাবের ব্যবস্থা করা হয়েছিল ৷ একশোজনের মত পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীসহ শিশুও ছিল ৷তিনি আরও বলেন, এখানে কমিউনিটি কিচেন চালু না হলে লছিপুরের সকল অধিবাসীদের অর্ধাহারে থাকতে হবে ৷ এইদিন বিশ্বনাথবাবুর সংগে ছিলেন আসানসোল ইসমাইল শাখার তৃণমূলের সেক্রেটারী অতনু চক্রবর্ত্তী ৷