কোলকাতা পৌরসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি, আসানসোল ও বাকি সমস্ত পৌরসভার নির্বাচন কবে রাজ্য সরকার জানাল হাইকোর্টকে

বেঙ্গল মিরর, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত : ১৯ শে ডিসেম্বর কোলকাতা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এর সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী বিধি কার্যকর হয়েছে। রাজ্যের শাসক দল ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ভোটের জন্য আবেদন করে। একই সঙ্গে পুরসভার ভোট নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। রাজ্যের সমস্ত পৌরসভা নির্বাচন কেন একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে না তা নিয়ে বিজেপি মামলা করেছে। বুধবার পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জল্পনা ছিল। অবশেষে আজ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে হাওড়া ও বালিতে ভোট চেয়েছে রাজ্য সরকার। যদিও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর এখনও বিলে স্বাক্ষর করেননি। বৃহস্পতিবার দেখা গেল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন শুধু কলকাতায় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করেছে, একই সঙ্গে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১ ডিসেম্বর। ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, মনোনয়নে কোনো ভুল আছে কি না তা খতিয়ে দেখবে নির্বাচন কমিশন। এরপর ১৯ ডিসেম্বর কলকাতায় নির্বাচন হবে। ফলাফল ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হতে পারে। ২২ ডিসেম্বরের মধ্য়ে ভোট প্রক্রিয়া শেষ করার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন।

অন্য়দিকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত পৌরসভার ভোটগ্রহণ ৩০ এপ্রিলের মধ্যে হবে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এই কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস ১৯ ডিসেম্বর কলকাতায় নির্বাচনের আগে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। বিজেপির পৌর কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পর্কিত জনস্বার্থ মামলার এর শুনানির সময়, হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে যে রাজ্যের সমস্ত পৌরসভায় ভোটের পরিবর্তে কলকাতা পৌরসভার জন্য পৃথক নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

কয়েক সপ্তাহ আগে, বিজেপি নেতা প্রতাপ ব্যানার্জি কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা ( PIL) দায়ের করেন। ইস্যুটি ছিল কেন রাজ্যের সমস্ত পৌরসভায় একসঙ্গে ভোট হচ্ছে না ৷ গত মঙ্গলবার বিষয়টির শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন, “সকল পৌরসভা আপনারা একসাথে নির্বাচন করছেন না কেন?”

১৮ নভেম্বর, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কৌঁসুলি পার্থসারথি সেনগুপ্ত হাইকোর্টে বলেন যে , যতক্ষণ জনস্বার্থ মামলা মুলতুবি থাকবে, ততক্ষণ নির্বাচনী নোটিশ জারি করা হবে না। বৃহস্পতিবার প্রতাপ এবং অন্য একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানির সময়, বিজেপির আইনজীবী পিঙ্কি আনন্দ বলেন যে, কমিশন বলে যে তারা কোভিড পরিস্থিতির জন্য একসাথে ভোটগ্রহণ করাতে চায় না। ত্রিপুরায় ভোট চলছে। ভোটে আপত্তি নেই। কিন্তু এত কথা বলার পরেও কেন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল? কমিশনের বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করারও দাবি জানান তিনি।

ওই সময় প্রধান বিচারপতি জানতে চান, বাকি পৌরসভাগুলোর ভোট কবে হবে? তিনি যখন এই ব্যাপার জানতে চান , তখন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে বলে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগে কলকাতায় ভোট চলছিল। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সমস্ত পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *