দিল্লির তিহার জেলে বন্দী সায়গল হোসেন, আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে ” প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে “র আবেদন

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়, দেব ভট্টাচার্য ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ গরু পাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হওয়া বীরভূমের তৃনমুল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে হাজির করানোর জন্য শনিবার তার আইনজীবীর তরফে ” প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে” র আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিলো। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী আগামী ১১ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
প্রসঙ্গতঃ, গত ২১ অক্টোবর দিল্লি আদালতের নির্দেশে আসানসোল জেল থেকে সায়গল হোসেনকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির অফিসাররা ট্রেনে করে দিল্লি নিয়ে যান। মুলতঃ গরু পাচার মামলায় তদন্তের জন্য জেরা করতে চেয়ে ইডি সায়গলকে দিল্লি নিয়ে যায়। আদালতের নির্দেশ মতো তাকে দু’দফায় নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। তারপর শুক্রবার অর্থাৎ ৪ নভেম্বর তাকে জেরার পরে আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাকে তিহার জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন ।

riju advt

file photo


অন্যদিকে, আগেই গরু পাচার মামলায় আসানসোলে সিবিআয়ের বিশেষ আদালত ৫ নভেম্বর শনিবার তাকে হাজিরার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। গত জুন মাসে সায়গলকে সিবিআই গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার করেছিলো। তারপর থেকে সে আসানসোল জেলে আছে। রাজ্য পুলিশের একজন সাধারণ কনস্টেবল সায়গল হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি করার অভিযোগ উঠেছে। এই টাকার উৎস সন্ধানে ও অনুব্রত মণ্ডল সহ অন্যান্যদের সঙ্গে গরু পাচারে তার ভূমিকা ঠিক কি ছিলো তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। সায়গলের ফোন থেকে অনুব্রত মন্ডল এনামুল সহ অনেকের সঙ্গেই গরু পাচারের বিষয় নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলেও অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই । সেজন্যেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে আসানসোল থেকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়।


সায়গলের আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা বলেন, শনিবার আসানসোলে সিবিআইয়ের আদালতে তার জন্য আমরা “প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট” র আবেদন করেছিলাম। যাতে তাকে আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে হাজির করানো হয়। কিন্তু বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন এই মুহূর্তে সায়গল হোসেন ঠিক কোথায় আছে বা তিহার জেলে আছে কিনা, তা জানা নেই। দিল্লির আদালতের নির্দেশ তা কিন্তু আদালতের যে নিজস্ব পোর্টাল আছে ( সিএস) সেখানে এখনো উঠেনি। ফলে তার বর্তমান অবস্থান ঠিক কি, সেটা জানা যাচ্ছে না। সেই জন্যেই আগামী ১১ নভেম্বর এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। আইনজীবী আরো বলেন, ঐদিন আবারো এই একই আবেদন জানাবো আদালতের কাছে।


অন্যদিকে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, সিবিআইয়ের চার আধিকারিক একাধিক ব্যাগ নথি সহ শনিবার আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে আসেন। সায়গল ইডির দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদে যে সব উত্তর দিয়েছেন তাতে আরো বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নাম উঠে এসেছে। বিশেষ করে শাসকদলের একাধিক নেতার নাম নতুন করে উঠে এসেছে। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এইসব কিছুর নথি এদিন সিবিআই আদালতে জমা দিয়েছে বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *