দুর্গাপুর গণধর্ষণ কান্ড, ৩১ দিনের মাথায় চার্জ গঠন, ট্রায়াল শুরু ১৯ নভেম্বর
বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুর্গাপুর গণধর্ষণ কান্ডে ঘটনার ৩১ দিনের মাথায় সোমবার চার্জ গঠন হলো দুর্গাপুর মহকুমা আদালত। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে মামলার বিচার প্রক্রিয়া ট্রায়াল শুরু হবে। ১০ দিনের জেল হেফাজত শেষে অভিযুক্ত ধৃত ছযজনকে সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। নির্যাতিতার সহপাঠী অভিযুক্ত ওয়াসিফ আলির আইনজীবী তার মক্কেলকে নির্দোষ বলে দাবি করে পিটিশন ও জামিনের আবেদন করেন বিচারকের কাছে। তারপরেই বিচারক বেশ কিছুক্ষণের জন্য এজলাস ছেড়ে চলে যান। বেশ কিছুক্ষণ পরে আবার এজলাসে আসেন। এরপর ওয়াসিফ আলির জামিনের আবেদন ও পিটিশ অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠক খারিজ করে দেন। তিনি চার্জ গঠন করার নির্দেশ দেন। সেই মতো এই মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বা স্পেশাল পিপি বিভাষ চট্টোপাধ্যায় এই মামলার চার্জ গঠন করেন।














বিচারক জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর এই মামলার ট্রায়াল শুরু হবে। এদিন বাকি ধৃত পাঁচজনের তরফে তাদের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি। এই মামলায় ধৃত ৬ জনের মধ্যে ২ জন মহঃ রিয়াজুদ্দিন ও সফিক শেখকে পুলিশ রাজসাক্ষী করতে চেয়ে এর আগে আদালতে আবেদন করেছিলো। কিন্তু এদিন আদালত সূত্রে জানা গেছে, তারা রাজসাক্ষী হতে রাজি হয়নি।পরে, সাংবাদিকদের বিশেষ সরকারি আইনজীবী বলেন, এদিন এজলাসে দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ সওয়াল-জবাব হয়। অভিযুক্তদের তরফে তাদের আইনজীবিরা নির্দোষ বলে দাবি করেন। তারা তার পক্ষে বেশি কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেন। কিন্তু বিচারক তার খারিজ করে দেন। এরপর বিচারকের নির্দেশ মতো আমি মামলার চার্জ গঠন করেছি। আগামী ১৯ নভেম্বর ট্রায়াল শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, ধৃত ৬ জনের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা করে চার্জ গঠন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গতঃ, আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে সাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে মোট ৫১ জনের। ট্রায়াল শুরু হলে, এই সাক্ষীদের একে একে ডাকা হবে। উল্লেখ্য, আগেই এই মামলার সরকারি আইনজীবী বলেছিলেন, বিচার প্রক্রিয়া দুমাসের মধ্যে শেষ করার সবরকম চেষ্টা করা হবে। গত ১০ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের শোভাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি পড়ুয়া সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়ে নির্যাতনের শিকার হন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ১১ অক্টোবর এফআইআর করে। একে একে তিনদিনের মধ্যে মোট ছজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

