নির্বাচনের ৫ দিন আগে তৃণমূলে ধাক্কা , দল বদলে সস্ত্রীক বিজেপিতে যোগ দুর্গাপুরের প্রাক্তন বিধায়কের
বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক ৫ দিন আগে দুর্গাপুরের রাজনীতিতে এক বড় রাজনৈতিক দলবদল ঘটলো। দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বিশ্বনাথ পারিয়াল শনিবার তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টিতে বা বিজেপিতে যোগ দিলেন। দুর্গাপুর নগর নিগমের ৩০ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার বিশ্বনাথ পারিয়ালের স্ত্রী রুমা পরিয়ালও এদিম বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই দলবদল নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে মনে করা হচ্ছে।এদিন সন্ধ্যায় দুর্গাপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে এই দলবদল হয়। সুকান্ত মজুমদার প্রাক্তন বিধায়কের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দিয়ে দলে স্বাগত জানান। প্রাক্তন সাংসদ এস.এস. আলুওয়ালিয়া এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুই সহ অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সমর্থকদের বিপুল উপস্থিতি এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।














প্রসঙ্গতঃ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্বনাথ পারিয়ালের সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টগুলিতে এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত ছিল। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারের নীতির ক্রমাগত সমালোচনা করে আসছিলেন। যা তাঁর দলত্যাগের জল্পনাকে উস্কে দিচ্ছিল।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বিশ্বনাথ পারিয়াল রাজ্য সরকারের উপর তীব্র আক্রমণ চালান। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন থমকে গেছে। নারী সুরক্ষার অবস্থা উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে।
তিনি ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।তিনি বলেন, এখন থেকে আমি বিজেপির মঞ্চ থেকে জনগণ এবং রাজ্যে পরিবর্তনের জন্য লড়াই করবো।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে বিশ্বনাথ পরিয়াল তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলের দীর্ঘদিনের কর্মীদের অবহেলা করা হয়েছে। নেতাদের সম্মান করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, যে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাবই তাঁকে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। এর পাশাপাশি তার মন্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান তার ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো।বিশ্বনাথ বলেন , বিজেপিই একমাত্র দল যারা রাজ্যের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, বিজেপিতে যোগ দিয়ে দুর্গাপুর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়নের জন্য আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।বিশ্বনাথ পারিয়ালের একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন রয়েছে।
তিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন এবং কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলস্বরূপ, তার এই দলবদলকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এই দলবদলের পরে, সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন যে বিশ্বনাথ পারিয়াল এবং তাঁর সমর্থকদের বিজেপিতে যোগদানের ফলে দল আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেসকে আরো বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।যদিও এই বিষয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অভ্যন্তরীণভাবে দলের মধ্যে এটিকে একটি বড় ক্ষতি হিসেবে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনী আবহে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন ভোটের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলে, তা সময় বলবে।l

