আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী খুনের ঘটনা রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত রাহুল গান্ধীর পোস্ট পাশে থাকার আশ্বাস বিজেপির
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের খুনের ঘটনা নিয়ে শনিবারের পরে রবিবারও রাজনৈতিক তার অব্যাহত রয়েছে। রবিবার আসানসোলে দলের কর্মীর খুনের ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি এই ঘটনার জন্য রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এর পাশাপাশি রাহুল গান্ধী মৃত কর্মীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এদিকে, আসানসোল উত্তরের বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় রবিবার নব অনন্যা কমপ্লেক্সে এসে দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।














এরপর তিনি আসানসোল জেলা হাসপাতাল যান। বিজেপি নেতা বলেন , ২৪ এপ্রিল রাতে যা ঘটেছে তা প্রমাণ করে যে এখন পশ্চিমবঙ্গ তথা আসানসোলে কোনো আইন-শৃঙ্খলা নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ দুই অপরাধী এক ব্যক্তিকে তাঁর বাড়ির বাইরে পিটিয়ে খুন করে। যখন তাঁর সন্তান ও স্ত্রী সাহায্যের জন্য কাঁদছিলেন ও কাকুতিমিনতি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু অপরাধীরা কোনো দয়া দেখায়নি। তিনি আরো বলেন , তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে অপরাধীরা আইনের ভয় হারিয়ে ফেলেছে বলেই এসব ঘটছে। কিন্তু এই অবস্থা বেশিদিন টিকবে না।এদিকে, এদিন সকাল থেকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে থেকে দলের কর্মীর দেহের ময়নাতদন্তের কাজের তদারকি করেন আসানসোল উত্তর বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি।
তিনি বলেন, দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় যে কমপ্লেক্সে থাকতেন সেখানেই আমি থাকি। আমি তাঁকে নিজের ছোট ভাই বলে মনে করি। তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি যখন ঘটে তখন একজন সাব-ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পুলিশের ছিল না। তাই তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়। পুলিশ সবকিছু দেখেও কিছুই করেনি। কংগ্রেস নেতা বলেন, তিনি এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করতে চান না। কিন্তু ২৪ এপ্রিল যখন দেবদীপকে মারধর করা হচ্ছিল, তখন তিনি আমার নাম উল্লেখ করেন।
তারপর তাকে আরও বেশি মারধর করা হয়। আমি একজন কংগ্রেস নেতা ও আসানসোল উত্তর থেকে প্রার্থীও হয়েছি। তাই স্বাভাবিকভাবেই একটি রাজনৈতিক দিক উঠে আসে।তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু কংগ্রেস ও বিজেপির অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি বলেন, কংগ্রেসের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কিছুই নেই।
যে কারণে তারা এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, এই পুরো বিষয়টির সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এই ঘটনায় যদি কেউ দোষী হন, তবে তাঁর দলীয় পরিচয় না দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি যতদুর জানি, যে ঐ যুবককে বাঁচাতে গেছিলো, সে আমার দলের কর্মী। তাকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

