প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতে উৎসবের মেজাজ সকাল থেকেই বুথে ভোটারদের লাইন কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ও অভিযোগের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট গলসি ও আউশগ্রামে
*বেঙ্গল মিরর, আউশগ্রাম ও গলসি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটে উৎসবের মেজাজ। তারই মধ্যে সকাল থেকে বুথে বুথে লম্বা লাইন ভোটারদের উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে মহিলা ও পুরুষ সব ভোটার সমানতালে এদিন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ও অভিযোগের মধ্যেই এদিন আউশগ্রাম ও গলসি বিধানসভায় শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হয়েছে। এদিকে, রাত আটটা পর্যন্ত কমিশন সূত্রে পাওয়া শেষ খবর অনুয়ায়ী গলসি বিধানসভায় ৯৪.৫১ ও আউশগ্রাম বিধানসভায় ৯৫.২০ শতাংশ ভোট পড়েছে।এদিকে, আউশগ্রাম বিধানসভার গুসকরা শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯৫ নম্বর বুথের ভোটার হলেন বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি। বুধবার সকাল সকাল ভোট দেওয়ার জন্য তিনি হাজির হন গুসকরা বালিকা বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে।














খোশ মেজাজে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূয়ষী প্রশংসা করতে শোনা যায় তাকে। এছাড়াও জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী তিনি।অন্যদিকে, গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কাঁকসা ব্লকে বুধবার সকাল থেকেই ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন। এদিন সকাল থেকেই পানাগড় বাজার হিন্দি হাইস্কুলের বাইরে ভোটার রা ভিড় জমান। গোটা বুথে কড়া নজরদারিতে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এই বিদ্যালয়ে মোট ৪টি বুথ রয়েছে। ভোটার সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি। ভোটার দাঁড়িয়ে বিদ্যালয়ের মেন গেটের বাইরে। ৭টা বাজার আগেই এক এক করে ভোটারদের ঢোকানো শুরু হয়।

যদিও এদিন সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়।বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাতা মাথায় নিয়েই ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন ভোটাররা।এই বিধানসভার বুদবুদ এলাকার বিভিন্ন দোকানে ভোটদান শেষে ভোটারদের জমায়েত হতে দেখা যায়। বুধবার সকালে বুদবুদে ভোটগ্রহণ চলাকালীন বুথের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়াতে তৎপর হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।ভোট দিয়ে বেরিয়ে বহু ভোটার স্থানীয় দোকানগুলিতে দাঁড়িয়ে আড্ডা ও জমায়েত করছিলেন বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সেখানে পৌঁছে জমায়েত সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বুথ সংলগ্ন এলাকা ফাঁকা রাখার উপর জোর দেওয়া হয়। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে পরে ওই এলাকায় জমায়েত কমে যায়। তবে স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলতে থাকে বলে। এদিন সকাল থেকে প্রকৃতির ভ্রুকুটি ছিলই। কিন্তু তাতে কি ? বৃষ্টিকে তোয়াক্কা না করেই বুধবার সাতসকালে গণতন্ত্রের উৎসবে মেতে উঠল গলসি বিধানসভা কেন্দ্র। এদিন সকাল থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি ভিজেছে গোটা বিধানসভা এলাকা। তবে তার আঁচ পড়েনি ভোটারদের উৎসাহে।
ছাতা মাথায় লম্বা লাইন ও ‘মডেল বা আদর্শ বুথে” ঝকঝকে আয়োজনে গলসিতে ভোটের মেজাজ এদিন ছিল কার্যত উৎসবের আমেজে।এবারের নির্বাচনে গলসির ভোটারদের অভিজ্ঞতায় বাড়তি পাওনা ছিল প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি। বিশেষতঃ গলসি কেন্দ্রের অন্তর্গত বুদবুদ মহাকালী বিদ্যালয় এবং বুদবুদ হিন্দি স্কুলকে এদিন সাজিয়ে তোলা হয়েছিল ‘মডেল বুথ’ হিসেবে। রঙিন সজ্জা আর সুশৃঙ্খল পরিকাঠামোয় ভোটারদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও সকাল থেকে এই বুথগুলিতে পুরুষ ও মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
গলসিতে ভোট শুরু হতেই ইভিএম বিকল, সাময়িক বিঘ্নের পর স্বাভাবিক ভোটগ্রহণগলসি বিধানসভায় ভোট শুরুর মুখেই ইভিএম বিকলে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। শিড়রাই গ্রামের ২৪৯ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই ইভিএম বিকল হয়ে যায়।এরপর ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা তড়িঘড়ি বিকল্প ইভিএম নিয়ে আসেন। তবে পরপর দুটি ইভিএম আনলেও সেগুলিও বিকল থাকে, ফলে ভোট দিতে আসা ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়।পরবর্তীতে তৃতীয় ইভিএম আনার পর সেটি সচল হয়।
এরপর থেকেই ওই বুথে স্বাভাবিকভাবেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।গলসি বিধানসভা নির্বাচনে কাঁকসা ব্লকের তিলকচন্দ্রপুর এলাকায় ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে জমায়েতকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, বুথের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল এবং সেখানে অস্থায়ীভাবে দলীয় বুথও তৈরি করা হয়েছিল।পরিস্থিতি নজরে আসতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা
মেনে বুথ সংলগ্ন এলাকা খালি করার উদ্যোগ নেয়। সেই সময় সিপিএম ও তৃণমূলের অস্থায়ী বুথ সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, সেখানে জমায়েত থাকা কর্মী-সমর্থকদেরও এলাকা ছেড়ে সরে যেতে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনার পর এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য চাঞ্চল্যের পরিবেশ তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

