ভাগ্য পরীক্ষা : ভোট গণনার একদিন আগে মন্দিরে মন্দিরে শাসক ও বিরোধী দলের প্রার্থীরা, জয়ের কামনায় পুজো
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ভোট গণনার একদিন আগে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। রবিবার রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল বিজেপির প্রার্থীরা ধর্মীয় আচারের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। তারা মন্দিরে মন্দিরে যান ও নিজেদের জয়ের কামনায় পুজো দেন। পাশাপাশি ঠাকুরের আশীর্বাদ নেন।এদিন আসানসোল উত্তর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মলয় ঘটক বার্নপুরের বারি ময়দান কালী মন্দিরে পূজা দেন।পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মলয় ঘটক বলেন , আমি বার্নপুরে একটি কমিউনিটি হলে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে যোগ দিতে এসেছি।














সেখানে যাওয়ার আগে আমি পুজো দিতে এবং আশীর্বাদ চাইতে মন্দিরে এসেছি।ভোটের ফল বেরোনোর আগে এক্সিট পোলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২১ সালে এক্সিট পোলগুলো কত আসনের পূর্বাভাস দিয়েছিল? তারা ২০০-র বেশি বলেছিল, কিন্তু আসলে কি হয়েছিল তা সবাই জানেন।অন্যদিকে, কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ অজয় পোদ্দার ভোট গণনার আগে আত্মবিশ্বাসী ও সক্রিয় ভূমিকায় নজর কেড়েছেন। রবিবার সকালে বরাকরের সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিয়ে দিন শুরু করেন তিনি।
এরপর কল্যানেশ্বরী মন্দির সহ একাধিক ধর্মীয় স্থানে গিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের বড় অংশ।ডাঃ পোদ্দার নিজেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, কুলটির মানুষ আবারও আমাকে সেবা করার সুযোগ দেবেন বলেই আমার বিশ্বাস। সাধারণ মানুষের সমর্থন ও আশীর্বাদকেই তিনি নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, আগামী দিনে উন্নয়ন ও বিশ্বাসের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।এদিকে, আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল এদিন বার্নপুরের বারি ময়দান কালী মন্দিরে পুজা করেন।
তাঁর সঙ্গে বিপুল সংখ্যায় বিজেপি কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ৪ মে একটি ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। ৩৪ বছর বামফন্ট্র এবং ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের কুশাসনের পরে, সোমবার পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন সূর্যের উদয় হতে চলেছে। বিজেপি ব্যাপক জয় পেতে চলেছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলায় ডাবল ইঞ্জিনের সরকার গঠন করতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে গত ১৫ বছরে বাংলায় কোনও উন্নয়ন কাজ হয়নি। শুধুমাত্র তোষণের রাজনীতি করা হয়েছে। যার যোগ্য জবাব বাংলার মানুষ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে দিয়েছেন।
সোমবার যখন নির্বাচনের ফলাফল আসবে তখন দেখা যাবে বাংলা বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, বাংলার মানুষ ভিন্নভাবে চিন্তা করেন, তা সোমবার সারা ভারত তার প্রমাণ পাবে।এদিন, অন্যদের মতো নির্বাচনের ফল ঘোষণার একদিন আগেই রবিবার পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি কালীমন্দিরে তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে পুজো দেন বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারি। এদিন তিনি বলেন, যেভাবে এবারের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোট দান করেছেন।
তিনি বলেন, মানুষ যেভাবে আমার দলকে সমর্থন দিয়েছেন, তাতে সন্দেহ নেই যে আমরা ক্ষমতায় আসতে চলেছি। তবে তিনি একথাও বলেন মানুষের রায় যাদের পক্ষে গিয়েছে তারাই সরকার চালাবে। জিতেন্দ্রবাবু বলেন, পাণ্ডবেশ্বরের মানুষ এর রায় তারা মাথা পেতে নেবেন। যদি পাণ্ডবেশ্বরের মানুষ তাদের প্রশাসকের ভূমিকায় দেখতে চান তাহলে আগামী দিনে পাণ্ডবেশ্বরের মানুষের সুখ, সুবিধা অভাব, অভিযোগের বিষয়টি দেখবো।
আর যদি পাণ্ডবেশ্বরের মানুষ আমাদের বিরোধী হিসাবে দেখতে চান তাহলে শাসকদলের ভুল ত্রুটি তুলে ধরা আমাদের কাজ হবে।আর মাত্র কয়েক ঘন্টা, তারপরই রাজ্যে হাই ভোল্টেজ বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষনা হতে চলেছে। কে বসবে বাংলার মসনদে ? কার দিকে পাল্লা ভারী ? রাজ্যে কি ফুটবে পদ্মফুল? নাকি থাকবে জোড়া ফুল? এ সবের দিকে তাকিয়ে বাংলার আপামর জনতা।

