মাধ্যমিকে রাজ্যে দশম আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের অভিষেক দাস
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের অভিষেক দাস রাজ্যে মেধা তালিকায় দশম স্থান পেয়েছেন। অভিষেকের বাড়ি আসানসোলের শহীদ সুকুমার পল্লীতে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮। বাংলা, জীবন বিজ্ঞান এবং অঙ্কতে ১০০ তে ১০০ পেয়েছে সে। বাবা অসিত দাস বেসরকারি ডিস্ট্রিবিউটরের অধীনে পণ্য সামগ্রী ডেলিভারির কাজ করেন। মা ঝুমা দাস গৃহবধূ। বাবা-মায়ের পাশাপাশি অভিষেকের এই সাফল্যে খুশি পরিবারের অন্য সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা । ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার জন্য অভিষেক মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করার প্রস্তুতি নিয়েছে। অভিষেকের এই রেজাল্টে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজেরা।














রেজাল্ট বেরোনোর পরে শুক্রবার সকালে বাড়িতে তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিলো চোখে পড়ার মতো। বন্ধু থেকে আত্মীয় পরিজনেরা ফোনে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। চলছে মিষ্টি মুখ করানোর পালা।এদিন সকালে বাড়িতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক দাস বলেন, পরীক্ষা দেওয়ার পরে আশায় ছিলাম ভালো রেজাল্ট করবো। তবে ৬৮৮ নম্বর পেয়ে ১০ জনের মেধা তালিকায় চলে আসবো ভাবিনি। খুব ভালো লাগছে। বাবামায়ের পাশাপাশি স্কুলের মহারাজ শিক্ষকদের থেকে সবরকম সহযোগিতা সব সময় পেয়েছি। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই সাফল্য আমি পেতাম না। অভিষেক আরো বলেন, চারজন গৃহশিক্ষক আমার ছিলেন।

রেফারেন্স বই ও শিক্ষকেরা আমায় যেমন পরামর্শ দিয়েছেন, তেমন পড়াশোনা করেছি৷ সকালে স্কুল সহ অন্য ব্যস্ততা থাকার কারণে রাতে পড়াশোনা করতাম। নির্বিঘ্নে ও শান্তিতে অনেক ভালো পড়া যায়। অভিষেক বিভিন্ন ধরনের গল্পের বই পড়া তার হবি। তেমন খেলাধুলো না করলেও, সে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা দেখে।
যারা আগামী দিনে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলেছে, তাদের প্রতি অভিষেকের পরামর্শ, নিজের মতো করে পড়াশোনা করলেই, ভালো নম্বর পাওয়া যায়। অভিষেক স্কুলের পরীক্ষায় সবার প্রথমে থাকতো। তবে, মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষায় সে দ্বিতীয় হয়েছিলো।ছেলের সাফল্যে বাবা অসিত দাস বলেন, খুবই ভালো লাগছে। কতটা সাপোর্ট ছেলের এই সাফল্যে দিতে পেরেছি বলতে পারবো না। তবে, ওর যা দরকার, তা দিয়েছি। আগামী দিনেও ছেলে যা চাইবে, তা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

