ASANSOL

অসাধ্য সাধন ” ফিড বই টই হই চই ফ্রি কোচিং স্কুল” র বাধা বিপত্তি কাটিয়ে মাধ্যমিক পাশ আসানসোলের ২০ মেয়ের

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* এ যেন অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার গল্প। ইঁটভাটা, পাথর খাদানে কাজ করা কিশোরীদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনে মাধ্যমিক পাশ করানো , এক অসাধ্য সাধন কাজ। কিন্তু সেই কাজ এবার করে দেখালো পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বনসরাকডিহির ” ফিড বই টই হই চই ফ্রি কোচিং স্কুল “। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই কোচিং স্কুলের পড়ুয়ারা ” কুড়িতে কুড়ি” । কুড়ি জন আর্থিক ভাবে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া বাড়ির মেয়েরা পাশ করলো মাধ্যমিক। তারা এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলো আসানসোলের পাঁচগাছিয়ার কমলা গার্লস হাইস্কুল থেকে। এদের কারোর বাবা নেই। আবার কারোর কারোর মা কাজ করেন পাথর খাদানে।

এতো আধুনিকতার যুগেও কারোর বাড়িতে নেই লাইট। সবকিছুর বাধা কাটিয়ে চলেছে পড়াশোনা। আর তাতেই এসেছে সাফল্য। পলাশডিহা বাউড়ি পাড়ার রীতা বাউড়ির বাড়িতে আজও কোন ইলেকট্রিক নেই। বাবা অসুস্থ। সংসারের হাল ধরতে মা কাজ করেন পাথর ভাঙা কলে। এবার মাধ্যমিক পাশ করেছে রীতা। ২০ জনের মধ্যে আছে সরাকডিহির শ্রেয়া পাইক। তার বাবা দিন মজুর, মা অসুস্থ। সংসারের সমস্ত কাজ করেও পাশ করেছে এবার সে মাধ্যমিক পাশ করেছে দ্বিতীয় বিভাগে। নন্দিনী বাউড়ির বাবা বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না। মা দিন মজুর। আছে আরো দুই বোন ।

সাংসারিক অশান্তির জন্য পুড়েছে জন্ম শংসাপত্র থেকে সমস্ত কাগজপত্র। লড়াই চালিয়ে পাশ করেছে নন্দিনীও। তার স্বপ্ন নার্স হওয়ার।স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ” ফিড”র তরফে চন্দ্রশেখর কুন্ডু বলেন, এ এক অসম লড়াই। আজ অন্ধকার কাটিয়ে আলোর দেখা দিল। সম্ভব হয়েছে আমাদের সমস্ত অনুদানকারী ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য। সম্ভব হয়েছে ফিড’র সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য। সম্ভব হয়েছে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য। এক অভিভাবক লক্ষী বাউড়ি বলেন, ফিডের এই ফ্রি কোচিং সেন্টার না থাকলে আমার মেয়ে এতদূর এগোতো না। সারাদিন আমি পাথর ভাঙা কলে থাকি। স্বামী অসুস্থ। বাড়িতে কারেন্ট নেই। ভালো ভালো শিক্ষক শিক্ষিকা , সহায়িকা বই, খাতা , ব্যাগ সবকিছুই যোগান দিয়েছে ” বই টই হই চই ফ্রি কোচিং স্কুল”। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *