ASANSOL

আসানসোলের দুর্গা মন্দিরে বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, পুজো বন্ধ নিয়ে বিদায়ী শাসক দলকে আক্রমণ

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী ও পাঁচ মন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক পরের দিন রবিবার সকালে আসানসোলের বস্তিন বাজারের দুর্গা মন্দিরে এলেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরে নিত্য পুজো বন্ধ থাকা নিয়ে রাজ্যের বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। তার কথায়, আসানসোলের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও মন্ত্রী এক সম্প্রদায়ের মানুষকে তোষামোদ করতে ও ভোট ব্যাঙ্ক ঠিক রাখতে এই মন্দিরে পুজো করার রাস্তা বন্ধ করেছিলো। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ সরাসরি মানতে চাইলেও, কিছু যে একটা ভুল ছিলো, তা তিনি মেনে নিয়েছেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন, আসানসোল উত্তর বিধানসভা থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় আসানসোলের জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি বিধায়ক হলে আসানসোলের বস্তিন বাজারের দুর্গা মন্দিরটি খুলবেন। সেখানে নিত্য পুজো হবে। এই মন্দির গত ১৫ বছর ধরে বন্ধ ছিল। দুর্গাপুজোর কটা দিন এই মন্দিরের দরজা খুলতো ও পুজো হতো৷ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন সন্ধ্যায় মন্দিরের দরজা খোলা হয়েছিলো, বিজেপি বিধায়ক হিসেবে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় আসানসোল উত্তর বিধানসভা থেকে জয়লাভ করার পরেই।রবিবার সকালেবিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বস্তিন বাজারের দুর্গা মন্দিরে আসেন ও পুজো দেন।

তার সঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ দে ,কৃষ্ণ প্রসাদ , দুর্গেশ নাগী সহ বিপুল সংখ্যায় বিজেপি কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শহরের অন্যান্য মন্দিরের মতো এই মন্দিরের দরজাও এবার নিয়মিতভাবে প্রতিদিন খোলা হবে। নিত্যপুজো হবে। যা সনাতনী হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের বিষয় ও ঐতিহাসিক দিন। তিনি আরো বলেন, যেকোন মন্দিরে দিনে নিত্য পুজো হওয়া একটা শুভ। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে এখানে তা হচ্ছিল না। যা খুবই অশুভ কিন্তু সেই দিন এখন অতীত। তিনি বিজেপির ওপর আস্থা রাখার জন্য আসানসোলের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। এবার আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করার কথা। বিজেপি বিধায়ক বলেন, এই মন্দির নিয়ে অবশ্যই রাজনীতি হয়েছে। একটা দলের নেতা ও মন্ত্রী একটা সম্প্রদায়ের মানুষজনদের তুষ্ট করতে এই মন্দিরে পুজো বন্ধ করে রেখেছিলেন। এবার তা আর হবেনা। এর পাশাপাশি তিনি এখানকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে বজায় থাকে, তা আমাদেরকেই দেখতে। এই মন্দিরের আশপাশে অন্য ধর্মের মানুষেরা থাকেন ও ব্যবসা করেন। তাদের যাতে কোনকিছু না হয়, তা দেখা হবে। মনে রাখা দরকার নিজের ধর্ম পালন যেমন করতে হবে, তেমনই অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে।

এদিকে, এদিন বস্তিন বাজারের দুর্গা মন্দির আবার খোলার বিষয়ে তৃনমুল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি. শিবদাসন ওরফে দাসুকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। সাংবাদিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এদিন মন্দির খুলেছেন ও পুজো দেন। বিজেপি বিধায়ক অভিযোগ করেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশকে খুশি করার জন্য মন্দিরটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। দাসু বলেন, আমি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। কারণ মন্দিরটি আমার অফিসের খুব কাছে। তাই আমি জানি যে সেখানকার পরিবেশ কেমন। তিনি আরো বলেন, সেখানে এমন কোনো পরিবেশ ছিল না যে এটিকে এত বড় বিষয় বানানো হবে। কিন্তু কিছু লোক ইচ্ছাকৃতভাবে এটিকে একটি বড় বিষয় বানিয়েছেন। যার ফল আজ দলকে ভোগ করতে হচ্ছে। দাসু নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সম্পর্কে বলেন, তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পারেন। আমি আশা করি যে তিনি তাই করতে পারবেন।

সাংবাদিকরা দাসুকে জিজ্ঞাসা করেন যে বিজেপি বিধায়ক বলেছেন, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং আসানসোল উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক মলয় ঘটকের কারণে মন্দিরটি খোলা হয়নি। যিনি এই মন্দির নিয়ে রাজনীতি করেছিলেন। দাসুও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে সরাসরি কিছু বলতে চাননি।তবে, যাই হোক না কেন, আসানসোলের এই পুরনো দুর্গা মন্দির আগের মতোই শাসক ও বিরোধী দলের রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দুতেই থেকে গেলো বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Social Share or Summarize with AI

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *