তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন চক্রবর্তীর অভিযোগকে অস্বীকার করে সরব প্রাক্তন ব্লক সভাপতি
বেঙ্গল মিরর, পান্ডবেশ্বর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই তোলাবাজি, ভোট-পরবর্তী হিংসা ও দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতা ও কর্মী গ্রেফতার হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।সম্প্রতি পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার ব্লক সভাপতি শতদ্বীপ ঘোষ এবং ছোঁড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রামচরিত পাসোয়ানের গ্রেফতারের পর সামাজিক মাধ্যমে সরব হন নরেন চক্রবর্তী। ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং সাধারণ কর্মীদের ঘরছাড়া করা হচ্ছে।














তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পাণ্ডবেশ্বর সহ গোটা পশ্চিম বর্ধমান জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে এবং বহু কর্মী প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।এদিন প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে নরেন চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ কর্মীদের উপর অত্যাচার না করে আমাকে ডাকুন। কতজন কর্মী নিয়ে থানায় যেতে হবে জানিয়ে দিন, আমরা নিজেরাই পৌঁছে যাব। চাইলে গ্রেফতার করুন, জেলে পাঠান, কিন্তু সাধারণ মানুষকে আর হয়রানি করবেন না।
তিনি ভিডিও বার্তায় ভোট গণনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেন। তার কথায়, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সাহায্য বিজেপি ভোটে কারচুপি করেছে। কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে। ঘনিষ্ঠদের একের পর এক গ্রেফতারের পর নিজের গ্রেফতারের আশঙ্কাও করছেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর এই ভিডিও বার্তার পরে তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সুজিত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্যই পান্ডবেশ্বরে তৃণমূল কংগ্রেসের এই অবস্থা। তিনি এইসব বলে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের আরো বিপদে ফেলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জেলা সভাপতি হয়েও দলের নেতা ও কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। তার অনুরোধ জেলা সভাপতি আর যেন, এমন বার্তা না দেন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নেতাদের মধ্যে দলাদলি কি, পান্ডবেশ্বরে তৃণমূল কংগ্রেসের এই হাল। এর পাশাপাশি তিনি জেলা সভাপতির কারচুপির অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন।

