টেট নিয়ে সুপ্রিম রায়ে উদ্বেগ, আইন সংশোধনের দাবি জেলাশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি রাষ্ট্রবাদী শিক্ষক সংগঠনের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* টেট সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের জেরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। তারই প্রেক্ষিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএমের মাধ্যমে স্মারকলিপি জমা দিল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষক মহাসংঘ বা এবিআরএসএম। এদিন আসানসোলে জেলাশাসক কার্যালয়ের সামনে সংগঠনের সদস্য শিক্ষক ও শিক্ষিকারা ধর্ণা অবস্থানে বসেন। জানা গেছে, এদিন সারা দেশের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় বাংলার বিভিন্ন জেলার ইউনিটও।এবিআরএসএমের স্কুল এডুকেশন বিভাগের রাজ্য সহসভাপতি শান্তনু মুখোপাধ্যায় বলেন, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অবসরের জন্য পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাধ্যতামূলকভাবে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।














রিভিউ পিটিশনের পর সময়সীমা ৩১ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়৷ কিন্তু সেই রায় শিক্ষকদের অনুকূলে আসেনি বলে দাবি সংগঠনের।তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ‘রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট’ এবং পরবর্তী এনসিটিই-র বিধি কার্যকর হওয়ার বহু আগে থেকেই বহু শিক্ষক চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। সেই সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতেই তাঁরা নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তাই বহু বছর পরে প্রণীত আইনকে অতীতের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উপর কার্যকর করা শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর অসন্তোষ ও মানসিক চাপের সৃষ্টি করেছে।
শান্তনুবাবুর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশে প্রায় ২০ লক্ষ এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর প্রভাব শিক্ষাক্ষেত্র এবং ছাত্র-শিক্ষকের স্বাভাবিক সম্পর্কের উপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েই শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের রায় নিয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই। কিন্তু যে আইনের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একই দাবিতে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছিল। রিভিউ পিটিশনের রায় প্রকাশের পর অখিল ভারতীয় স্তরে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফের দেশের সমস্ত জেলাশাসকের মাধ্যমে এদিন একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। প্রায় ১৫ লক্ষ সদস্য নিয়ে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শিক্ষক মহাসংঘ দেশের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষক সংগঠন বলেও দাবি করেন তিনি।


